কঠোর হতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে

প্রকাশ | ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:০৪

অনলাইন ডেস্ক

অনেকে বলছেন, পারস্পরিক আস্থার অভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান থমকে গেছে। আবার কারো কারো মতে, মিয়ানমারের স্বদিচ্ছার অভাবেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুন না কেন, বাস্তবতা বলছে, সমস্যার সমাধান হয়নি। সহসা সমাধান হবে, এমন কোনো নজিরও নাগালের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে যে নির্যাতন করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী আজ তা সত্য বলেই বিবেচিত হচ্ছে। সংখ্যালঘু এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতেই দেশটির সেনারা ২০১৭ সালে নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালায়।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শত-সহস্র রোহিঙ্গা নারী এবং মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ধর্ষণের ৮০ শতাংশ ঘটনাই উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটানো হয়েছে। আর গণধর্ষণের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার ৮২ শতাংশের দায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে কয়েকটি সীমান্ত পুলিশ পোস্টে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় নির্বিচারে সেনা অভিযান শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার বেশির ভাগকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বা শরীরে পোড়া খত নিয়ে আসতে দেখা যায়। নারীদের দেহে গণধর্ষণের চিহ্ন ছিল স্পষ্ট।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেনাবাহিনী গ্রামের পর গ্রামে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করে। এই অভিযোগ তদন্তের জন্য সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বিভিন্ন দেশের তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত দল গঠন করে। সেই তদন্ত দলের প্রতিবেদনেই বলা হয়, মিয়ানমার সরকার গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত কাউকেই আটক অথবা বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারেনি।

এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, এ ক্ষেত্রে মিয়ানমান সরকারের স্বদিচ্ছার অভাব ছিল শতভাগ। প্রতিবেদন বলেছে, গণহত্যার দায়ে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানে ব্যর্থতার দায় মিয়ানমার সরকারের। মিয়ানমার শুরু থেকেই রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পাশাপাশি অকুস্থলে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তারা কাউকেই দেয়নি। এমনকি জাতিসংঘের তদন্ত দলকেও তারা রাখাইন রাজ্যে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। এ পর্যায়ে জাতিসংঘের ভূমিকাও খুব একটা দৃঢ়তার স্বাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর চেয়ে পরাশক্তিধর দেশগুলো তাদের স্বীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় বিশ্বমানবতা এখানে পদদলিত হয়েছে। আর বাংলাদেশ এক কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে সময়কে অতিক্রম করছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা ভাবছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চিন্তার সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও একাত্মতা ঘোষণা করে বলছে, আমরা মানবতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করার পরও আশাহত হয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে এর সমাধান হওয়া দরকার। তাই বাংলাদেশের জন্য কঠোর হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প খোলা নেই।

আমরা চাই, বাংলাদেশ কোনো কঠোর সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে জাতিসংঘ তার ক্ষমতার ইতিবাচক প্রয়োগে এগিয়ে আসবে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করবে।

পিডিএসও/হেলাল