গোপন সমস্যা সমাধানে প্রতারণা

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৪৬ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৩১

বিয়ের আগে লজ্জা আর ভয় কাজ করছিলো দুলাল (ছদ্মনাম) এর মনে। কিন্তু কারো সঙ্গে গোপন বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে পারছিলো না। রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা দুলালের বিয়ের বাকি আর ৩ মাস। বিয়ের পর বউয়ের কাছে নিজের পুরুষত্ব কীভাবে জাহির করবে এই ভেবে তার ঘুম হারাম। এমতাবস্থায় একদিন বাসে করে যাবার সময় একটা লিফলেট পায় সে। লিফলেটে যা আছে তা নিয়ে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেখেছে ইতোপূর্বে। এতদিন বিষয়টাকে গুরুত্ব না দিলেও এখন সময় এসেছে মনে করে লিফলেটটা ভাঁজ করে পকেটে রাখে। বাসায় এসে লিফলেট ভালো করে পড়ে। একটা হারবাল কোম্পানির বিজ্ঞাপন। যেখানে মূলত দুলালের সমস্যা সমাধনের কথাই বলা হয়েছে। ১০০% গ্যারান্টির কথাও বলা হয়েছে। ঠিকানা পড়ে দেখে মগবাজারেই। কাছাকাছি হওয়াতে দুইদিন পর সেই হারবাল কোম্পানিতে গেলো দুলাল।

প্রথমে তার কাছ থেকে ৫০ টাকা ফি রাখা হলো। ভিতরের রুমে ডাক্তার পরিচয়ে এক লোকের কাছে নিজের সমস্যার কথা জানালে ডাক্তার তাকে কিছু ওষুধ তৈরি করে দেবেন বলে। যার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। দুলাল রাজি হয়। লোকটি দুলালকে জানায় ওষুধ তৈরিতে ২দিন সময় লাগবে। ২দিন পর আসলে ওদের বড় ডাক্তারের সাথেও দেখা করার সুযোগ পাবে দুলাল। দুলাল ২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে রিসিট নিয়ে চলে আসে। 

দুইদিন পর বাকি টাকা নিয়ে দুলাল আবার গেলো। এবার দুলালকে এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো। যে কিনা এই কোম্পানির বড় ডাক্তার। তরুণ বড় ডাক্তার দুলালের লিঙ্গ পরীক্ষা করলেন। তিনি দুলালকে আশার বাণী শোনালেন। আগের দিনের ডাক্তারের সঙ্গে কিছু আলাপ করে দুলালকে ওষুধ দিতে বললেন। বাকি টাকা দেওয়ার পর দুলালকে ওষুধ দেওয়া হলো। একটি হালুয়া, আরেকটি  পাউডার জাতীয় যা দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে বলা হলো। আরেকটি ছোট্ট শিশি। যাতে একপ্রকার মালিশ। 

দুলালকে নিয়মিত দুইবার ওষুধগুলো খেতে বলা হলো। আর শিশির তেলটি প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে লিঙ্গতে মালিশ করতে বলা হলো। দুলাল নতুন উদ্যমে ওষুধ নিয়ে বাসায় ফিরে এলো। সেদিন থেকে শুরু হলো দুলালের ওষুধ সেবন ও মালিশ। 

মালিশটিতে একরকম নারিকেল তেলের গন্ধ মনে হলো দুলালের কাছে। এভাবে একমাস পার হবার পর দুলাল খেয়াল করলো তার সমস্যার কোনো উন্নতি হয়নি। এভাবে সব ওষুধ শেষ করার পরও আরও একমাস অপেক্ষা করলো। কিন্তু দুলালের সমস্যা সমস্যাই থেকে গেলো্। দুলাল লজ্জায় এ কথা কাউকে বলতেও পারছে না। মনে মনে ক্ষোভ ঝাড়লো। এতগুলো টাকা খরচ করেও তার যৌন সমস্যার কোনো পরিবর্তন হলো না। একসময় দুলালের মনে হলো এইসব রমরমা বিজ্ঞাপন দেখে বিশ্বাস করাটা তার ঠিক হয়নি। টাকাগুলো পানিতে গেলো। 

এভাবে কতো দুলাল প্রতারিত হলো কে জানে?