বিষমুক্ত করা হোক পোলট্রি ফুড

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৫১

সম্পাদকীয়

এক দশকে দেশে হাঁস, মুরগি ও মাছের উৎপাদন বেড়েছে। শুধু বেড়েছে বললেই সত্য বলা হবে না। বাড়ার খবরটি কারো কারো কাছে বিরক্তির জন্মও দিয়েছে বটে। তারা ঈর্ষার আগুনে পুড়ছেন। বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী দেখতে আগ্রহী নন, তাদের এই ঈর্ষণীয় হওয়াটাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কিছুদিন আগে দুধের ক্ষেত্রেও আমরা এ রকম একটি সংবাদের মুখোমুখি হয়েছিলাম।

কৃষিতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং উন্নতি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে এবং হচ্ছে। আগামী দিনে এই অগ্রগতি এবং উন্নতি যতই ঘনীভূত হবে; সম্ভবত এ ধরনের সংবাদ আরো বেশি করে প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি আরো একটি সত্য হলো, যারা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে পরোক্ষ অথবা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাদের জন্য এ সংবাদটি একটি অশনিসংকেত। এ মুহূর্ত থেকে তারা যদি সতর্ক না হন; তাহলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো শিল্পব্যবস্থায় ধস নেমে আসতে পারে; যা কেবল তাদের ব্যক্তিপর্যায়ের ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দেবে না, দেশের অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে ব্যাপকভাবে।

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দেশে বাণিজ্যিকভাবে হাঁস-মুরগির খামার এখন একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত। আর এই শিল্পকে কেন্দ্র করে অন্য যেসব সহযোগী শিল্প গড়ে উঠেছে তার মাঝে পোলট্রি ফিড (হাঁস-মুরগির খাবার) ও একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যেই তার অবস্থানকে তৈরি করে নিয়েছে। দেশে বছরে পোলট্রি ফিডের চাহিদা প্রায় ৪০ লাখ টন। প্রতি কেজির দাম গড়ে ৪০ টাকা ধরা হলে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার পোলট্রি ফিড বেচাকেনা হয়ে থাকে। মাত্র ২১৮টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এ চাহিদার জোগান দিয়ে থাকে। বাণিজ্যটি পাড়ার কোনো মুদিখানার দোকান ব্যবসা নয়।

মনে রাখা দরকার যে, বছরের লেনদেন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ভাবতে হবে মূল প্রতিষ্ঠান হাঁস-মুরগির খামারের কথা। ভাবতে হবে দেশ ও জাতির সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের কথা। খামারের কোনো ক্ষতি হলে একসঙ্গে সবাইকে পড়তে হবে ক্ষতির ভাগাড়ে।

মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, পোলট্রি ফিডে পাওয়া যাচ্ছে বিষাক্ত ট্যানারির বর্জ্য। চামড়ার বর্জ্যরে ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার তৈরি হচ্ছে। এ খাবার খাওয়ানোর ফলে বিষাক্ত হয়ে পড়ছে মাছ-মুরগি। ফিডে পাওয়া যাচ্ছে ট্যানারির চামড়ায় ব্যবহৃত ক্রমিয়াম, সালফিউরিক অ্যাসিড, লাইম, সোডা, ফরমিকা, ক্লোরাইড ও সালফেটের মতো রাসায়নিক। আর এসব বিষাক্ত উপাদান মুরগি ও মাছের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে মানব শরীরে। একই কারণে চলতি বছরেই তিনটি পোলট্রি ফিড প্রস্তুত ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

আমরা মনে করি, নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার চেষ্টা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভবত এটিই শ্রেষ্ঠ সময়। খাবারে বিষ। বাক্যটির ওজন সম্পর্কে একটু আলাদা করে ভাবার সময় এসেছে। একবার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে তখন যে ক্ষতিটা হবে, তা কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খামারিদের বিশেষভাবে সজাগ থাকতে হবে। কেননা, প্রথম তীরটি এসে লাগবে তাদের বুকেই। তারা হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য কেনার সময় বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচাই-বাছাই করে কিনবেন। এ ছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতির আওতায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিযোগিতায় আছেন, স্বীয় স্বার্থে তাদের অপপ্রচারের কথাকেও স্মরণে রেখে ব্যবস্থা গ্রহণও আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি খামারিরা নিশ্চয়ই গভীরভাবে ভেবে দেখবেন এবং এটুকুই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল