কালুরঘাট সেতুকে ঝুঁকিমুক্ত করা হোক

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৬ | আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৩৮

সম্পাদকীয়

আমরা অনেক ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বেঁচে আছি। শুধু আমরাই বা কেন! বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ এখন কম-বেশি ঝুঁকির মধ্যেই সময়কে অতিক্রম করছে। তবে এমন কিছু ঝুঁকি আছে, যা বাধ্য হয়েই মানুষের কাঁধে এসে পড়ে। আবার কিছু কিছু ঝুঁকিকে আমরা জেনে-শুনেই লালন করতে ভালোবাসি বা লালন করি। সর্বনাশ বা কোনো বড় ধরনের দুঃসংবাদ হেঁসেল পর্যন্ত প্রবেশ না করা অব্দি আমাদের চৈতন্য ঘুমিয়ে থাকে। আর ঘুমিয়ে থাকে বলেই দেশটা আজ সিস্টেমলসের শেকলে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছে। এখান থেকে যেন আমাদের কোনো মুক্তি নেই। কালুরঘাট সেতু আমাদের সে কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। কেননা, বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু। ৯০ বছরের পুরোনো এই সেতুকে ২০ বছর আগেই রেল কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। আর এই ২০ বছরে জোড়াতালি দিয়ে চালানোর মতো করে দাঁড় করিয়ে রাখতে সেতুটির পেছনে ব্যয় করা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। এখনো জোড়াতালির কাজ চললেও ঝুঁকির পরিমাণ কমেনি। বেড়েছে বহু গুণ। ভেঙে পড়তে পারে যেকোনো মুহূর্তে। এর মধ্যেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে ট্রেনসহ হাজার হাজার ভারী যানবাহন। আমরা যেকোনো দুর্ঘটনায় পড়ার আগে বিকল্প সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন চাই। চাই সেতুর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ, যা সেতু ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তথ্য মতে, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ নিয়ে ‘কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল কাম সড়ক সেতু প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প এরই মধ্যে একনেকে উপস্থাপিত হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর ওপর এই সেতু ভবিষ্যতে চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সংযুক্ত করে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৬৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কিন্তু কবে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। আর এ কারণেই গুঞ্জনের মাত্রাও বেশি। সংশ্লিষ্ট অনেকেরই মতে, প্রকল্পের শুরু কবে হবে, তা পরিষ্কার নয়। দীর্ঘসূত্রতায়ও পড়তে পারে। সেতুটি ২ হাজার ১০০ ফুট দীর্ঘ। প্রতি বছরই মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু সেই মেরামত ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে কতটা সফল, সে ব্যাপারে সন্দেহের পরিমাণ যথেষ্ট। আমরা মনে করি, এ সন্দেহ সরে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিপরীতে বলা যায়, ঝুঁকির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। নতুন সেতু নির্মাণ কবে শুরু হবে এবং কখন তা শেষ হবে, সে ব্যাপারে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে একটি ব্যাপারে সরকারের কাছে সবিনয়ে নিবেদন করতে পারি। আমাদের নিবেদন, কালুরঘাট সেতুকে যত দিন সচল রাখা হবে, তত দিন এর রক্ষণা-বেক্ষণের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী হতে হবে। সাধারণ মানুষকে যেন ভবিষ্যতে কালুরঘাট সেতু নিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে না হয়- এটুকু পেলেই সাধারণ মানুষসহ আমরা খুশি থাকব।

পিডিএসও/রি.মা