দুর্ঘটনা রোধে সড়কে শৃঙ্খলা প্রয়োজন

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ১২:৩৯

সম্পাদকীয়

মহাসড়কে প্রতিদিনই ঝরছে অসংখ্য প্রাণ। প্রতিদিনই সংবাদপত্রে ছাপা হচ্ছে সেসব দুর্ঘটনার বীভৎস ছবি। অথচ এসব দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে আমরা নানা উদ্যোগের কথা শুনেছি। কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বিরামহীন গাড়ি চালনা, অত্যধিক গতিতে গাড়ি চালনা এবং চালকের অসাবধানতার কারণে। এ বিষয়ে বারবার সতর্কতার পরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

গত রোববার কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এক বাসের সঙ্গে এক মাইক্রোবাস এবং এক অটোরিকশার সংঘর্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১৭ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর যেন আমাদের গা-সহা হয়ে গেছে। তাই সড়কে প্রাণ ঝরলেও তা আমাদের আবেগতাড়িত করে না! কিন্তু মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছে এর বেদনা সীমাহীন।

বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। নৌপথে বেশ কিছু নতুন লঞ্চ বহরে যুক্ত হয়েছে, রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন রেল ও বগি সংযুক্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও এবারের ঈদযাত্রায়ও সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২০৩টি দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২৪৪টি দুর্ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত ও ৯০৮ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৬ আগস্ট থেকে ঈদুল আজহা শেষে বাড়ি থেকে মানুষের কর্মস্থলে ফেরা অবধি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১২ দিনে ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ১১টি, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে একটি, ট্রেন ও যানবাহন সংঘর্ষে একটি, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার একটি ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। একই সময়ে নৌপথে ২৪টি ছোটোখাট বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৫৯ জন নিখোঁজ ও ২৭ জন আহত হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গত বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনাগুলো হলো- দূরপাল্লার গাড়িতে বিকল্প চালক রাখা, একজন চালকের পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালানো, চালক ও তার সহকারীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সড়কের পাশে সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরি করা, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধ করা বা সিগন্যাল মেনে পথচারী পারাপারে জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবহার এবং চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা নিশ্চিত করা।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আরো তৎপর ও দায়িত্ববান হবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ