নিরাপদ সড়ক গড়তে চাই নিরঙ্কুশ একাগ্রতা

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৪৮

সম্পাদকীয়

চাওয়াটা অন্যায় নয়। সরকার যদি আন্তরিকভাবে এ চাওয়ার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সাধারণ মানুষের এই সামান্য আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তাহলেই সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এই সামান্য চাওয়ার প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই প্রবল। আমাদের সরকার জঙ্গিবাদ দমনে যেভাবে সফলতা দেখিয়েছে, এতে যেমন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। একইভাবে আমরা সড়ক দুর্ঘটনাও কমিয়ে আনাও সম্ভব বলেই আমাদের বিশ্বাস।

এ ব্যাপারে সরকারকে অনমনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। এর সঙ্গে নিতে হবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাহলেই হয়তো আমরা ‘মৃত্যুকূপ সড়কের’ আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে এসে নিরাপদ সড়কে প্রবেশ করতে সক্ষম হব।

অনেকের মতে, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সড়কে জীবননাশের একটা মিল আছে। জঙ্গিবাদ বিনা কারণে, অন্যায়ভাবে সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনাও বিনা কারণে, অন্যায় আচরণের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং, সরকার যদি অত্যন্ত সফলতার মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদ দমন করতে পারে; তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সেই সরকারের পক্ষে কোনো কঠিন কাজ নয় বলেই আমাদের বিশ্বাস।

একমাত্র নৈতিক সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়নই পারে সড়ক-মহাসড়ককে মৃত্যুকূপ থেকে নিরাপদ সড়কে রূপান্তর ঘটাতে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং আন্দোলনও কম হয়নি। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু যেন আজ অনেকটা গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো আর প্রতিবাদও নেই। বিষয়টি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক বলে মেনে নেওয়া যায় না। মৃদু হলেও সড়ক আজ একটি আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে জনমনে। এর ব্যাপকতা উন্নয়নের চাকাকে মন্থর করতে পারে। শৃঙ্খলা হতে পারে বিপর্যস্ত। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সমগ্র দেশ ও দেশের মানুষ।

প্রতি ঈদেই সড়কে অসংখ্য মানুষ হতাহত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিনের হতাহতের সংখ্যাও কম নয়। সংখ্যা বাড়ছে। কোনো কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে না এই অপমৃত্যু। থামানে যাচ্ছে না পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বেপরোয়া আচরণ। যদি এই আচরণের ফলকে হত্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়; তাহলে বলতে হয়, এই বেপরোয়া আচরণের অন্যতম কারণ জবাবদিহি না থাকা। যারা মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তির যথাযথ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় এই বেপরোয়া আচরণ। আর এই আচরণের ফলেই দুর্ঘটনার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও।

এবারের ঈদুল আযহার ছুটিতে মাত্র সাত দিনেই মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২। আমরা মনে করি, জঙ্গি দমনের প্রশ্নে সরকার যেমন জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করেছে, এখানেও তা করতে হবে। বর্তমান সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখাতে পারলে এখানেও তা পারবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। সরকারের সাফল্য আমাদের ভাগ্যের চাকাকে নিরাপদ সড়কে তুলে দিতে পারে। আর এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল