পঙ্কিলতা মুছে যাক পবিত্র হজে

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১২:৫৭

সম্পাদকীয়

কাবা শরিফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার। মিনা এখন যেন একটি তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায় শুধু তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুর ভেতরে যারা আছেন, তাদের যেন একটিই কাজ। দুনিয়ার সব কাজের কথা ভুলে গিয়ে তারা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল। এত দিনের জমে থাকা পাপের বোঝা কমাতে এ যেন আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণ। মক্কা থেকে মিনা। সেই পথে সফেদ পোশাকে ঢাকা লাখ লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার থেতে শুরু হয়েছে হজের   মূল আনুষ্ঠানিকতা।

ইথারে, পাথরে, আকাশে, বাতাসে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছে একটি শব্দ, ‘লাব্বাইক’। লাখো মুসল্লির কণ্ঠে একই উচ্চারণ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক আল্লাহুম্মা... লা শারিকা লাক’। পৃথিবীর নানা দেশ, বর্ণ আর গোত্র থেকে আসা মুসলমানদের এ যেন এক মিলনতীর্থ। বিশ্বের ২০ লাখেরও বেশি মুসলমান একত্র হয়েছেন এখানে। লক্ষ্য একটিই, আজ পবিত্র হজ।

হজযাত্রীরা গতকাল শুক্রবার মিনায় অবস্থান শেষে মূল আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন আজ। ফজরের নামাজ আদায় শেষে মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন হজের উদ্দেশ্যে আসা লাখো লাখো মুসল্লি। এখানে তারা অবস্থান করবেন সুর্যাস্ত পর্যন্ত। এরপর আরাফাত ত্যাগ করে যাবেন প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায়। সেখানে তারা পাথর সংগ্রহ শেষে রাত কাটাবেন। ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মুজদালিফা থেকে ফিরবেন মিনায়।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা তাঁবুনগরী মিনা। এখানে থেকেই হজযাত্রীরা তাদের হজ আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্বে অংশ নেবেন। শেষপর্বের শুরু হবে বড় শয়তানকে পাথর মারার মধ্য দিয়ে। তারপর তারা কোরবানি দেবেন। এরপর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে তাওয়াব শেষে আবার ফিরে আসবেন মিনায়। সেখানে তারা আরো দুই দিন অবস্থান করে প্রতিদিন তিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে প্রতিটি শয়তানকে সাতটি করে পাথর মারতে হয়। প্রথমে জামারায় সগির (ছোট শয়তান), তারপর জামারায় ওস্তা (মেজো শয়তান), অতঃপর জামারায় আকারা (বড় শয়তান)।

আজ শনিবার আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হবে। হজের খুতবা শেষে জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন হাজিরা। সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে মুজদালিফা। এখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন তারা। মুজদালিফায় সারা রাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের পর শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ কার্যক্রম শুরু করবেন হাজিরা। তারপরই কোরবানি। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাত ময়দানে হাজিরার দিনকেই হজের দিন বলা হয়।

এবারে বাংলাদেশ থেকে হজে গেছেন ১ লাখ ২৬ হাজার মুসল্লি। আমরা তাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করে বলতে পারি, ‘হে পরওয়ারদিগার তাদের তুমি সুস্থ রেখো, সুন্দর রেখো, সব ধরনের খারাপ আলামত থেকে রক্ষা করো এবং একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যকে সুদৃঢ় করো।’

পিডিএসও/তাজ