পোশাকশ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১১:০০

সম্পাদকীয়

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি আয় পাঁচ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আর তা বাস্তবায়নে অবশ্যই কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। কারণ, আজ যা স্বপ্ন, ভবিষ্যতে সেটিই বাস্তবে রূপ নেয়। সেই লক্ষ্যে রফতানির শীর্ষে থাকা এ খাতকে সামনের দিকে আরো এগিয়ে নিতে হলে দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি অদক্ষদের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এ শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা অদক্ষ শ্রমিক। দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই কিন্তু সে তুলনায় দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

এ শিল্পে বর্তমান ৪০ লাখ নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ খাতে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগ কেবল দক্ষ শ্রমিকদের জন্য। ২০২১ সালের মধ্যে শুধু পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এটা পূরণ করতে হলে অবশ্যই দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আশার কথা, প্রশিক্ষণ দিয়ে পোশাক খাতে ১৫ লাখ দক্ষ শ্রমিকের চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নির্ধারণে আট সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের প্রশিক্ষণ প্রদান নীতিমালা-২০১৯ সামনে রেখে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান কাজ হবে পোশাক খাতে দক্ষ শ্রমিকদের চাকরির ব্যবস্থা করা।

গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘পোশাক খাতে ১৫ লাখ শ্রমিক চাকরি পাবে’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টির উল্লেখ করে বলা হয়, পোশাকের গুণগত মানের বিষয়টি অনেকাংশে দক্ষ শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে। এ কারণেই পোশাক খাতকে প্রশিক্ষণ প্রদান নীতিমালা-২০১৯ আলোকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক ও সিএমসি প্রধানকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ-সিবাই। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে অধিকতর মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিবাই উদ্বোধন করেন। তবে ২০১৬ সালের জুলাইতে ঢাকার আশুলিয়ায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫ হাজার ৭৬৩ শ্রমিক বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া ইউসেপ, মুসলিম এইড এবং বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ১০টি পোশাক কারখানায় এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং বা ইবিটি সেন্টার স্থাপন করেছে সিবাই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ শিল্পে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৩ জনে। ওই সময় আরো ২১ লাখ শ্রমিককে নতুন করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিকে পরিণত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশের পোশাক খাত শুধু বৈদেশিক মুদ্রাই অর্জন করছে না, সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানও। এ অবস্থায় দক্ষ শ্রমিক তৈরির কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল