রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ০৮:১৪

সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন নতুন উচ্চতায়। পাশের দেশের সঙ্গে সম্মানজনক বন্ধুত্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে আমরা এগিয়েছি অনেকটা পথ। আমাদের চলমান অর্থনীতি ও রাজনীতি এ ক্ষেত্রে যে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে, সে কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আজ একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছি, এ সত্যকে শত্রুপক্ষকেও স্বীকার করতে হচ্ছে।

উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে জিডিপির ক্রমোন্নতি আজ অনেকের কাছে ঈর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ঠিক সে কারণেই আমরা বৃহৎ শক্তির কাছে নিজেদের মর্যাদা আদায়ে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি আমাদের রয়েছে ভূরাজনৈতিক অবস্থান। সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বে আমাদের অবস্থান তুলনামূলক বিচারে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের মধ্য দিয়ে তা নতুন করে আবার প্রমাণিত হলো।

সম্প্রতি চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে যা বললেন, তা আমাদের শুধু উৎসাহিত করেনি, আশান্বিত করেছে। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে তারা কথা বলবেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, তার এই চীন সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেছেন, আমরা পরস্পরের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকব। দুই প্রতিবেশী দেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি। রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে চীনের অভিমত হচ্ছে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তারা।

আমরা মনে করি, একটি কারণে চীনকে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। মার্ক্সবাদী চিন্তা-চেতনায় লালিত একটি দেশের পক্ষে নির্যাতিত সাধারণ মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া সম্ভব নয়। নিলে তা দর্শনবিরোধিতার পর্যায়ে পড়ে। এ ছাড়া রয়েছে স্বার্থ ও সম্পর্ক। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে চীন-বাংলাদেশ একটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরো ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে চীনের ভূমিকার ওপর দ্বিতীয় দফায় আলোকপাত করতে গিয়ে বলেছেন, তারা বিষয়টি দেখবেন এবং বিবেচনা করবেন। এ জন্য তাদের যা করণীয়, তারা তা করবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন, তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুবার মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আবার পাঠানো হবে। এখানে আমরা বিশ্বাস করতে চাই, চীনের প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাসের কথা বলেছেন, তা কেবল ছেলে ভোলানো গল্পের মতো হবে না। এটি দুই রাষ্ট্রের দুই প্রধানের আলোচনার সারবস্তু এবং ঘোষণা। আমরা এই আশ্বাসবাণীকে সম্মান করতে চাই। নির্যাতিত রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে তাদের নাগরিত্বসহ মিয়ানমারে ফিরে যাক এবং সমাজতান্ত্রিক দেশ চীন নির্যাতিতের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বমানবতার রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক—এটাই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল