দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সময়ের দাবি

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৯, ১৩:০৪

সম্পাদকীয়

কোনো এক বাদী মামলা করেছেন যুবক বয়সে। এখন তার মাথায় একটিও কালো চুল নেই। মামলা চলছে, শেষ হয়নি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, কেন! সহজ ও সাবলীলভাবে বলা যায়, গোটা বিচারব্যবস্থা বা প্রক্রিয়া। তদন্ত থেকে শুরু করে রায় হওয়া পর্যন্ত একটি মামলাকে অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে আসতে হয়। সঙ্গে আবার জড়িয়ে আছে সিস্টেম লসের কারসাজি।

অর্থাৎ মামলার গতিকে স্বাভাবিক থেকে অস্বাভাবিকে নামিয়ে আনার জন্য আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জোটবদ্ধ হয়ে এ কাজে নিয়োজিত থাকেন। অবশ্য সবাই নয়। তবে যে কজন আছেন, তাদের কারণেই আজ বহন করতে হচ্ছে নানাবিধ সংকট।

আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের কাছে আটকে আছে প্রায় ৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে অর্থঋণ আদালতের রায়ের প্রায় ৯০ শতাংশই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আসবে। এখানেই প্রশ্ন! যাদের ওপর সঠিকভাবে উপস্থাপন করার দায়িত্ব অর্পিত ছিল বা আছে, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তারা তা করেননি। আর সে কারণেই ঝুলে গেছে মামলার কার্যক্রম। আটকে আছে আমানতকারীদের রক্ত আর ঘামের বিনিময়ে অর্জিত প্রায় ৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

যারা এ টাকা গ্রহণ করেছেন, এ টাকা কখনোই তাদের ছিল না। সরকারেরও নয়। এ টাকার মালিক সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত এ টাকা নিয়ে কৌশলে কুক্ষিগত করে রাখার এ খেলা কত দিন চলবে, তা আমাদের জানা নেই। তবে এ কথাও সত্য যে, এ খেলা বন্ধ করা সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে কঠিন ও কঠোর তত্ত্বাবধান। যাতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সঠিকভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই তাদের কাজে অনৈতিকতার সংযোগ ঘটাতে না পারেন। সৎ, সাহসী, দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা না থাকলেও বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে। যার মধ্যে রয়েছে আদালতে মামলাগুলোর জবাব সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, মামলা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একজনকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দিতে হবে।

সরকারের এ নির্দেশনাই বলে দিচ্ছে ঘাটতি কোথায় ছিল। আমরা মনে করি, যা কিছু ছিল তার মাঝে নিয়মশৃঙ্খলার অভাবই মুখ্য। সুতরাং এ মুহূর্তের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো নিয়মশৃঙ্খলাকে ফিরিয়ে এনে একটি জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া। মানুষ সৎ এবং সাহসী হলে যেকোনো কাজে তিনি সফল হতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, যারা এ কাজের দায়িত্বে থাকবেনÑ তারা যেন সব অনৈতিকতা পরিহার করে স্বচ্ছতার পরিচয় দেন। স্বচ্ছতাই পারে মানুষকে কল্যাণের পথে ধাবিত করতে। জাতির কাছে এটাই একমাত্র প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ