গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৯, ১২:১৩

সম্পাদকীয়

গ্রাহকের আপত্তিকে উপেক্ষা করে দেশে আবার বাড়ানো হলো সব শ্রেণির গ্যাসের দাম। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী গ্রাহককে এক বার্নারের চুলার জন্য ৯২৫ টাকা ও দুই বার্নারের জন্য মাসিক ৯৭৫ টাকা দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। শুধু ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি। আগের দাম প্রতি ঘনমিটার ১৭ টাকা বলবৎ থাকবে। সাধারণ ভোক্তা, বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রবল আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে সাধারণ ভোক্তারা।

গ্যাসের পুনর্নির্ধারিত এই মূল্য গতকাল সোমবার থেকেই কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার বিকালে বিইআরসি এক সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা দেয়। এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ওই বছরের মার্চ ও জুলাই থেকে দুই ধাপে তা কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের রায়ের কারণে প্রথম ধাপের দাম বাড়ানো কার্যকর হলেও দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হয়নি। এরপর চলতি বছরের শুরুতেই গ্যাসের দাম আরো একধাপ বাড়ানোর জন্য গ্যাস বিতরণ ও সঞ্চালন কোম্পানিগুলো বিইআরসির কাছে প্রস্তাব দেয়। তারা ৬৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এলএনজির সঙ্গে গ্যাসের দাম সমন্বয় করতে গত ১১ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানির আয়োজন করে। অবশেষে বিইআরসি গ্যাসের দাম ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। কারণ এমনিতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

অন্যদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে রফতানি খাত। যেসব পণ্যের একটি বড় অংশ দেশে আমদানি হয়, তাদের বিপদটাও কম নয়। রফতানি খাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে প্রতিযোগিতা সমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দেশে উৎপাদন খরচ বাড়লে বাজার পেয়ে যেতে পারে আমদানি পণ্য। এখন আমরা দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়নে যাচ্ছি। ইকোনমিক জোনগুলো তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হবে। এছাড়া গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতি মাসে তাদের অতিরিক্ত ১৭৫ টাকা গুনতে হবে। সেইসঙ্গে বাড়বে সংশ্লিষ্ট ব্যয়। এই পর্যায়ে জনবান্ধব এই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়। যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

পিডিএসও/হেলাল