নিম্নমানের চাল ক্রয় বন্ধ করা হোক

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৯, ০৯:৩৫

অনলাইন ডেস্ক

সরকার টাকার জোগান দিচ্ছে কৃষকের দুঃখ লাঘব করতে; বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রশ্নে। কৃষকরা এবার ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পাননি। লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে গেছে। এখন চলছে চাল সংগ্রহের পালা। সেখানেও পিঁপড়ার আনাগোনা। যে চাল দেওয়ার কথা তা না দিয়ে সরবরাহ করছে নিম্নমানের চাল। মিলারদের সঙ্গে যোগসাজশে কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরকারের এই মহৎ উদ্যোগে ছাই ঢেলে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। সরকার নির্ধারিত মানের চাল নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু মিলাররা সে চাল সরবরাহ না করে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করছেন এবং তা ছাড়পত্র দিয়ে গ্রহণ করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ, জাতি এবং সরকার। প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার দায়িত্ব তাদের কে দিয়েছে।

আমরা যতদূর জানি, দায়িত্ব কেউ দেয়নি। নিজেরাই নিজেদের মতো করে সিন্ডিকেট তৈরির মধ্যদিয়ে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। সম্ভবত এদের এই অপকর্ম দেখার মতো কেউ নেই। আর সে কারণেই দেশজুড়ে চলছে এদের রাজত্ব। সমাজে এদের প্রভাব-প্রতিপত্তিরও যেন শেষ নেই। টাকার বিনিময়ে এরা সবকিছুই কেনার ক্ষমতা রাখেন। তাই যত অনৈতিক কর্মই এরা করুন না কেন, আইনের আওতায় এদের আনা সম্ভব হয় না।

পত্র-পত্রিকায় এদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি এ রকম একটি অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কক্সবাজারের রামু খাদ্য গুদামে নির্ধারিত থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয়ের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে, মিলারদের সঙ্গে যোগসাজশে রামুর খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ চাল সংগ্রহ করেন। নিয়েছেন মোটা অংকের উৎকোচ। সূত্র মতে, রামুতে বিভিন্ন খাতে উপকারভোগীদের অনুকূলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ৩৪২ টন চাল সংগ্রহে স্থানীয় ১৮ জন চালকল মালিকের সঙ্গে চুক্তি হয়। এই মিল মালিকদের কাছ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত চাল সংগ্রহ করা হয় ১ হাজার ৭০ টন। অভিযোগ তদন্তে ১৯ জুন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে একটি দল রামু খাদ্যগুদামে আসে। দলটি গুদামের ছয়টি খামাল পরিদর্শন করে নিম্নমানের চাল ক্রয়ের সত্যতা পায়। খামাল থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ভৌত পরীক্ষায়ও চালগুলো নিম্নমানের বলে প্রমাণ মেলে।

নিম্নমানের চাল ক্রয়ের বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিম্নমানের চাল অপসারণ, মানসম্মত চাল গুদামে প্রতিস্থাপন এবং অভিযুক্ত খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার খসড়া প্রেরণসহ চারটি নির্দেশনা দিয়ে কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠান। এছাড়া একই চিঠিতে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে চাল সরবরাহকারী মিলারদের তালিকা প্রেরণ ও জেলার অন্য খাদ্যগুদামে মানসম্মত চাল নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্ত একই মিলারদের কাছ থেকে আরো ২৭২ টন চাল ক্রয় করা হয়।

চিত্রটি বাংলাদেশের একটি অঞ্চলের। এ চিত্র থেকেই অন্যত্র কি চলছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। আমরা মনে করি, সরকারের টাকা লুটপাট করে খাওয়ার নির্দেশনা কেউ দিতে পারে না। দেশে আইনের শাসন আছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই একমাত্র পথ। এই পথই পারে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে। আমাদের প্রত্যাশাও সেখানেই।

পিডিএসও/হেলাল