কান নিয়ে গেছে চিলে…

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৯, ১৯:১৫ | আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ১৯:৩০

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণেই হোক কিংবা মিডিয়ার কল্যাণেই হোক- নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মতোই আবারো জনমনে নাড়া দিয়েছে রিফাত হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখেছে সারাদেশের কোটি কোটি মানুষ। সেদিন প্রকাশ্যে রাস্তায় যখন রিফাতকে খুনীরা দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার জন্য আস্ফালন করে যাচ্ছিলো তখন রিফাতের স্ত্রী মিন্নিই একমাত্র স্বামীকে বাঁচাতে খুনীদের সঙ্গে ক্রমাগত যুদ্ধ করে যাচ্ছিলো যা ভিডিওতেই দেখেছে সবাই। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী কেউ রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বরগুনা সরকারি কলেজের কলা ভবনের শিক্ষার্থীরা ঘটে যাওয়া দৃশ্যটা মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। যা ইতোমধ্যে ভাইরাল। সেই ভিডিওর কল্যাণেই নয়ন বন্ড রিফাত ফরাজীদের শনাক্ত করা গেছে। এইসব খুনীদের আড়াল করার আর কোনও সুযোগ নেই। 

আমি ভিডিওটি পুরোপুরি দেখার সাহস পাইনি। যতটুকু দেখেছি তাতেই শিউরে উঠেছি। আশপাশের মানুষ অসহায়ের মতো দেখে গেছে। কেউ বাঁচাতে সাহস করেনি। তারমানে কি আমরা অস্ত্রের কাছে জিম্মি? নিজের জীবনের ঝুঁকি কেউ নিতে রাজী নয়। অস্ত্র দেখলে সবাই কাপুরুষ হয়ে যায়। 

২০১২ সালে ঘটে যাওয়া আরো একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড যা দেশের মানুষ আজও ভুলেনি। পুরান ঢাকার যুবক বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে রাস্তায় কুপিয়ে হত্যা করেছিলো সন্ত্রাসিরা। সে ঘটনায় জড়িতরা আজও দাপটে আছে। মিডিয়ার কল্যাণে সে ঘটনায় জড়িতদের চিহিৃত করা সম্ভব হয়েছিলো। তেমনি রিফাতকে যারা হত্যা করেছে তাও প্রত্যক্ষ করেছে দেশের জনগন। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন ১৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু যে দুজন প্রধান খুনী- সেই নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী আজও পলাতক। প্রশাসন থেকে বারবার বলা হচ্ছে খুনীদের অচিরেই গ্রেফতার করা হবে। 

খুব দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, এই ঘটনাকে অন্যদিকে মোড় নেওয়ারও চেষ্ঠা করা হচ্ছে। কোনও কোনও মিডিয়াতে খবর ছাপা হচ্ছে রিফাতের স্ত্রী এই খুনের সঙ্গে জড়িত। মিন্নি ও নয়নের আগে বিয়ে হয়েছিলো। ইতোমধ্যে মিন্নির সঙ্গে নয়নের ভিডিও এবং কাবিননামাও প্রচার করা হয়ে গেছে। সবই মানলাম। মানলাম মিন্নির সঙ্গে নয়নের কোনও না কোনও সম্পর্ক ছিলো। যা অতীত। মিন্নি অতীত পিছনে ফেলে রিফাতকে বিয়ে করেছিলো। এবং ঘটনার দিন মিন্নিকে স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপন লড়াই করেতে দেখেছে সবাই। এখন কথা হচ্ছে যারা প্রকাশ্যে খুন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। মিন্নি যদি জড়িত থাকেও তা একসময় না একসময় বেরিয়ে আসবে। এখন মিন্নির পিছনে না ছুটে খুনীদের গ্রেফতারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। চিলে কান নিয়ে গেছে বলে যদি চিলের পিছনে ছুটে বেড়াই তাহলে প্রকৃত খুনীরা অধরাই থেকে যাবে। নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই বেরিয়ে আসবে আসল কাহিনী। এইসব জঘন্যতম খুনীদের কঠিনভাবে শাস্তি দেওয়া হোক যা দেখে অন্য অপরাধীরাও শিউরে উঠে। 

পিডিএসও/মা