ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু সংস্কার

সরকারি উদ্যোগ সফল হোক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৯, ০৯:৪৯ | আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ১০:০৭

সম্পাদকীয়

সম্প্রতি রেলসেতু ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা সবার মনোযোগ কেড়েছে। গত রোববার রাতে ঢাকা-সিলেট রুটে রেলের বগি পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকা কালভার্ট ব্রিজ ভেঙে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঝুঁকিপূর্ণ সব রেলসেতু সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর এই তড়িত পদক্ষেপকে সাধুবাদ। শুধু একটি ক্ষেত্রে কিছু বলা আবশ্যক। আমরা ঘরপোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই। এ দেশে প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছাকে মাটি করে দেওয়ার মতো লোকের অভাব নেই। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, দুর্নীতি এবং ফাইলের শম্বুকগতি প্রধানমন্ত্রীর অনেক ইচ্ছাকে চলতে দেয়নি সরল গতিতে। অন্তত এবার এই ক্ষেত্রে আমরা সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাই।

দেশের ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেলপথে ছোট-বড় কালভার্ট ব্রিজ রয়েছে ৩ হাজার ১৪৩টি। এর বেশির ভাগই অর্থাৎ ৯০ শতাংশ নির্মিত হয়েছে ১৯৩৫ সালে। রেল কর্তৃপক্ষের বছরভিত্তিক জরিপের তথ্য মতে, ৩ হাজার ৯২৯টি ব্রিজ-কালভার্ট সেতুর মধ্যে প্রায় ৪০০টিই এখন চলাচলের অনুপযোগী। সংস্কার না হওয়ায় রেল চলাচলে ক্রমাগত ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। স্বাধীনতাপূর্বকালে দেশে রেলপথ নির্মিত হয় ২ হাজার ৮৫৮ দশমিক ২৩ কিলোমিটার। আর স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নির্মিত হয় ৯৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার। বর্তমানে দেশের ২ হাজার ৮৭৭ কিলেমিটার রেলপথে ৩২৬টি বড় সেতু (৬০ ফুট বা তদূর্ধ্ব) এবং ছোট সেতুর সংখ্যা ২ হাজার ৮১৭। তবে এসব সেতুর অধিকাংশই নির্মিত হয়েছে ব্রিটিশ শাসনামলে। সেতুগুলোর বর্তমান বয়স ৮০ থেকে ১০০ বছর। বেশির ভাগ সেতুই নির্মাণ করা হয় ১৯৩০ থেকে ৩৫ সালের মধ্যে।

ঝুঁকিপূর্ণ সব রেলসেতু সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর এই তড়িত পদক্ষেপকে সাধুবাদ

রেল কর্তৃপক্ষ এত দিন সম্ভবত কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে ছিলেন। এত দিন এ ঘুম ভাঙানোর মতো কেউ ছিল বলে মনে হয় না। আর বিষয়টি তাদের অজানা ছিল এমনটিও নয়। তারা জানতেন। জানতেন বলেই রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনচালকদের এসব ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোতে এতকাল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রেলের এসব ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংস্কার এবং কোনো কোনো সেতু পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বছরের পর বছর ধরে তা ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে। সেতু নির্মাণের বিষয়ে এত দিন রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেও দায়ী করা করা হলে অযৌক্তিক হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশের পর তাদের ঘুম কিছুটা হলেও পাতলা হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রেল হতে পারে অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। এই মাধ্যমের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। শুধু রেলপথের কালভার্ট-ব্রিজের উন্নয়নই নয়, আমরা এর সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যাশা করি। মনে করি, পুরোটাকেই ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। আশা করি, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেবে।

পিডিএসও/হেলাল