দুর্নীতির জিরো টলারেন্সকে স্বাগত

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ১০:১০

সম্পাদকীয়

দুর্নীতি! দেশের জন্য শব্দটি এখন অনেকটা সমার্থক। একই সঙ্গে বিস্ময়করও বটে। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর মতো বাংলাদেশও যেন ধুঁকছে দুর্নীতি নামের মহাব্যাধিতে। দেহের সর্বত্র ছড়িয়েছে এ রোগ। চিকিৎসা হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু তেমন কোনো সুফল এখনো চোখে পড়েনি। পড়েনি বলেই বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্সের কথা ইতোপূর্বেই ঘোষণা করেছে। ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘুষ গ্রহণকারীর পাশাপাশি ঘুষ প্রদানকারীও সমান অপরাধী। এদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের কেউ দুর্নীতি করলে সেও ছাড় পাবে না। অর্থশালী-বিত্তশালী ব্যক্তিরাও পার পাবেন না। তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বুধবার পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দুনীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, যদি কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেউ সম্পৃক্ত থাকেন, তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ভবিষ্যতেও একই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। আর আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য দলের কেউ একই অপরাধে জড়িত থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও অপরাধ সমপাল্লায় বিবেচিত হবে। আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ প্রথমে ঘর থেকেই শুরু করতে হয় এবং তিনি তা করেছেন।

তিনি বলেছেন, পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার কেউ এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে। কারণ এটা সমাজের ক্যানসার সারানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেমোথেরাপি। এই কেমোথেরাপি সমাজ-দেহের যেখানে প্রয়োজন হবে; সেখানেই ব্যবহার করা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, যত বড় বিত্তশালীই হোক না কেন, তাকে ছোঁয়া যাবে না—এ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। দুর্নীতি দমন সংস্থার মধ্যে অনেকেই দুর্নীতি ব্যাধিতে আক্রান্ত বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এ জনশ্রুতিকে মোটা দাগে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে যেন জনমনে নেতিবাচক ধারণার জন্ম না হয়, সে প্রশ্নে সরকারি সব কর্মকর্তাকে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি সংস্থাকে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।

পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী উচ্চারণকে সাধুবাদ এবং অভিনন্দন। আমরা মনে করি, তার প্রতিটি উচ্চারণের সঙ্গে দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ একাত্মতা ঘোষণা করেছে। এ মুহূর্তে দেশবাসীর একটিই প্রত্যাশা। তারা চায়, দেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক। জাতি দুর্নীতিমুক্ত অক্সিজেন গ্রহণ করার সুযোগ লাভ করুক। সাদা মনের মানুষের তকমা তার বৃত্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ুক দেশ-গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

পিডিএসও/হেলাল