জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ১০:০৮

সম্পাদকীয়

আজ জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেটসমৃদ্ধ ‘আগামীর পদযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। এ নতুন বাজেটে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পালনের পাশাপাশি গ্রামকে শহরে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, গ্যাস, গ্রামীণ অবকাঠামোসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে; যা বিগত নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল। আমরা আশা করি, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে উন্নয়নের যে গতি দৃশ্যমান; সেই গতিধারাকে আরো বেগবান করবে আজকের এ বাজেট।

আমরা মনে করি, আসন্ন বাজেট হবে উন্নয়নের জনপ্রত্যাশা পূরণের। সাধারণ মানুষকে যেন করের বোঝা টানতে না হয়। সার্বিক দিক থেকে বাজেট হবে দারিদ্র্যমুক্ত, ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানোর বাজেট, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য এবং শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মনে রাখতে হবে, বাজেট শুধু সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবই নয়, কারণ এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে। আর সে লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনীতির অবকাঠামো উন্নয়ন সব কিছুই বাজেটে দৃশ্যমান থাকে।

একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা দরকার। পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজের শতভাগ সাফল্য আশা করা যায় না। সেক্ষেত্রে বলতে হয়, আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিই হচ্ছে অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আর এ খাতের মূল কারিগর হচ্ছে কৃষক; যারা রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারা বছর কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। কিন্তু সে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। ফড়িয়া ও মজুদদারের হাত থেকে তারা যেন রক্ষা পান এবং কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য যেন পান; তা নিশ্চিত করতে হবে। উপরন্তু দ্রব্যমূল্য যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে। সাধারণ মানুষের যেন কষ্ট না হয়; এজন্য চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্য তেল, মসলাসহ নিত্যপণ্যের বাজার যেন স্থিতিশীল থাকে। কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য যেন একজন ভ্যানচালক, রিকশাচালক, অটোচালক, কৃষিশ্রমিক, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে না যায়। সাধারণ মানুষের বাজার স্বস্তির হয়।

বাজেট যেহেতু সাধারণ মানুষের দায়বদ্ধতার দলিল; তাই সে বাজেট যেন দায়িত্বহীনতার দলিলে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন প্রস্তাবিত বাজেট থেকে উপকৃত হয়। আমরা মনে করি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রকৃতপক্ষে জনগণ এবং দেশের উন্নয়ন হবে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে ও ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি সমৃদ্ধি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করবে।

পিডিএসও/হেলাল