প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ডকে স্বাগত

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯, ১৩:৩৬ | আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ১৪:২৩

সম্পাদকীয়

দেশের অর্থনীতির তিনটি স্তম্ভের একটি প্রবাসী আয়। আর সেই প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশের জন্য শতভাগ ইতিবাচক। গত মে মাসে প্রবাসীরা যে পরিমাণ আয় দেশে পাঠিয়েছেন, এ দেশের ইতিহাসে এক মাসে এ পরিমাণ আয় আগে কখনো আসেনি।

প্রবাসীরা এ সময় দেশে পাঠিয়েছেন ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় আসায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩ হাজার ১৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত অর্থেই শুভ। এ দেশের প্রায় প্রত্যেকটি মানুষই এ সংবাদকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীদের মঙ্গল কামনা করে বলেছেন, ‘এ ধারা অব্যাহত থাকুক’। আগামীতে ১৬ কোটি মানুষের এ প্রত্যাশা অটুট থাকবে কি না, গ্যারান্টি দিয়ে বলা না গেলেও এটুকু বলা যায়, ‘যা পেয়েছি তাতেইবা কম কিসে’।

এ টাকা আসার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্য ব্যাংকগুলোর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। ডলারের মান কম থাকায় প্রবাসীরা ভালো সুবিধা পাচ্ছেন এবং ব্যাংক তার সেবার মানকেও ত্বরান্বিত করেছে। আর সেই সুবিধাকে গ্রহণ করতে দ্বিধা করেননি প্রবাসীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের আমদানি চাহিদা মেটাতে এ আয় বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তবে তাদের অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, কত দিন এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেটিই দেখার বিষয়।

আমরা বিশ্বাস করি, প্রবাহমান নদীতে সব সময় জোয়ার থাকে না। জোয়ার-ভাটার সংমিশ্রণেই নদীর প্রবাহ। এটা প্রকৃতির নিয়ম। লঙ্ঘিত হলেই বিপর্যয় নেমে আসতে বাধ্য। আমরাও প্রকৃতির নিয়মকে লঙ্ঘন করতে চাই না। বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেই আজ মানবজীবনে বিপর্যয়ের শেষ নেই। আমরা সহাবস্থানে বিশ্বাসী।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট চলছে। এজন্য সব ব্যাংকই প্রবাসী আয় আনার ব্যাপারে বাড়তি মনোযোগ দিয়েছে। কেউ কেউ ডলারের বিপরীতে বেশি দাম দিয়েও আয় এনেছে। পাশাপাশি অবৈধ চ্যানেল বা ডিজিটাল হুন্ডি বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার করার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের গতি বৃদ্ধি ঘটেছে।

আমরা মনে করি, ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা যে যার মতো করে কিছু বেশি টাকা স্বজনদের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন— এ কথা যেমন সত্য, পাশাপাশি ব্যাংকসমূহের ভূমিকার কথা, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও স্বীকার করতেই হয়।

আমরা যদি অবৈধ চ্যানেল ও ডিজিটাল হুন্ডি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারি, তা হলেই বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের মাত্রাকে বাড়িয়ে গত মে মাসের আয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দিতে পারি। এটাই আমাদের বিশ্বাস। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের বিশ্বাসের প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন করবে—এটুকুই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ