রোহিঙ্গা ইস্যু

মুসলিমবিশ্বের সহায়তা চাই

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৯, ১০:৩৪

সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা ইস্যুটি যখন অনেকটা আলোচনার বাইরে, ঠিক সে মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ফোরামে আবার যেন ফিরে এলো থিতু হয়ে পড়া বিষয়টি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের এ অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গত শনিবার জোরালো আহ্বান জানালেন ওআইসির ১৪তম ইসলামিক সম্মেলনে।

তিনি বলেছেন, মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেনি। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যেতে মুসলিম দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

সৌদি আরবের মক্কায় ওআইসির ১৪তম ইসলামিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনের শিরোনাম ‘মক্কা সামিট : টুগেদার ফর দ্য ফিউচার’। এবারের সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন ৫৭ মুসলিম প্রধান দেশের নেতারা। বক্তব্য উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১০ লাখের ওপর যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের দীর্ঘদিন বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এর একটি ইতিবাচক সমাধান হওয়া খুবই জরুরি। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে নান্দনিক পরিবেশ তৈরি আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রতি সুবিচার ও দেশে ফেরা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আবুধাবি। গাম্বিয়াও প্রস্তাবে সমর্থন জুগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবুধাবি ও গাম্বিয়ার ভূমিকায় ন্যায়বিচারের প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের আইনগত অধিকার নিশ্চিতের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ এখন ওআইসির সব সদস্য দেশের সহযোগিতা কামনা করছে। বিশেষ করে এ মামলা রজ্জুর বিষয়ে স্বেচ্ছা তহবিল সংগ্রহ এবং কারিগরি সহযোগিতার জন্য তিনি ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

আমরা মনে করি, মিয়ানমারের জোরপূর্বক রোহিঙ্গা উচ্ছেদ অভিযানের পর মানবিক কারণে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ তার সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আশ্রয় দিয়েছে। সম্মানজনক প্রত্যাবাসন এখনো অনিশ্চিত। রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার জন্য যে ধরনের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, তা মিয়ানমার এখনো তৈরি করতে পারেনি। প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার এ গতিপথকে পরিবর্তন করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, ওআইসি যদি সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ কাজে এগিয়ে আসে; তা হলে একটি ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। আমরা সেই সম্ভাবনার দিকেই তাকিয়ে আছি। একই সঙ্গে আমরা আশা করি, ওআইসি সব সময় বিশ্বমানবতার পাশেই থেকে তাদের ভূমিকাকে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওআইসি ইমানি দায়িত্বসহ এগিয়ে আসবে—এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল