সমঝোতা চাই মূল্য নির্ধারণে

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯, ১১:০৯

সম্পাদকীয়

ছুরির তলায় জীবন যাচ্ছে পশুকুলের। মানুষের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করাতে তাদের কোনো কার্পণ্য নেই। টুকরো টুকরো হয়ে বাজারে এসে বাঁশের আড়ায়, লোহার শিকে ঝুলে থাকতেও আপত্তি নেই। আপত্তি মানবকুলের সিদ্ধান্তহীনতায়। মারা যাওয়ার পর আবার মরতে হয়েছে। ঠুকরো টুকরো হয়ে প্রকাশ্য বাজারে এসে ঝুলে থাকতে হয়েছে। তখন তাদের নাম রাখা হয়েছে মাংস। এই মাংসের দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষের মতদ্বৈততা তাদের ব্যথিত করেছে।

তারা বলছে, আমরা মানুষের ভোগের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে পারলেও মানবকুল সামান্য মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবাদে মেতেছে। এটা জীব ও প্রাণিকুল শ্রেষ্ঠদের জন্য কতটা যৌক্তিক, সে বিচার করার ক্ষমতা আল্লাহ আমাদের দেননি। আমরা শুধু এটুকু মনে করতে পারি, কাজটা মানবসুলভ হয়নি। আমরা মানুষের কাছে মানবসুলভ আচরণের প্রত্যাশী।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামে আর মাংস বিক্রি করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। এখন থেকে তারা নিজেদের ঠিক করা দামে বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন। গত ৬ মে পুরো নগরের জন্য মাংসের দাম নির্ধারণ করে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাংস ব্যবসায়ীরা ওই দামে মাংস বিক্রি করেননি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করপোরেশনের অসহযোগিতার কারণেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, গাবতলী গরুর হাটে মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খাজনার থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। হাটের ইজারাদারদেরও কোনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন লোকসান দিয়ে মাংস বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই মাংস ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয় দখলমুক্তকরণ, সরকার নির্ধারিত গরুর হাটের খাজনা বাস্তবায়ন এবং হাটের ইজারাদারকে জবাবদিহির মধ্যে আনার দাবি জানানো হয়।

তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাংস ব্যবসায়ীদের জরিমানা করেন। কিন্তু চাঁদাবাজি ও খাজনার অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে হাট ইজারাদার কোটি কোটি টাকা আদায় করলেও র‌্যাব-পুলিশ, ভোক্তা অধিকার, সিটি করপোরেশন তা আমলে নিচ্ছে না। ইজারার শর্ত মানানোর দায়িত্ব করপোরেশনের প্রদান সম্পত্তি কর্মকর্তার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তার ভূমিকাও রহস্যজনক।

আমরা মনে করি, বিষয়টি মারাত্মক আকার ধারণ করার আগেই এর একটা সমাধান হওয়া দরকার। তাদের দাবির সত্যতা যাচাই করে এ মুহূর্তে করপোরেশনের ইতিবাচক ভূমিকায় এগিয়ে আসাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর, যা কোনো সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না।

পিডিএসও/হেলাল