প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের শাস্তি হোক

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৯, ১৩:৪১

সম্পাদকীয়

গতকাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদটি দেশ ও জাতির জন্য একটি বড় মাপের দুঃসংবাদ। বিষয়টি লজ্জার ও ঘৃণার। মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অভিযোগপত্রের বাইরে, তদন্তে আরো ৮৯ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে সংস্থাটি। সঠিকভাবে নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পূরক অভিযোগপত্র দেবে গোয়েন্দা সংস্থাটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার এ তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করতে সিআইডি সময় নিয়েছে দেড় বছর। গত বৃহস্পতিবার সিআইডি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসম্মুখে আনে।

দেশে প্রতিদিনই ছোট-বড় নেতিবাচক কিছু ঘটনা ঘটছে। সেখানে তদন্ত হচ্ছে, অভিযোগপত্র দাখিলসহ বিচারকার্যক্রমও চলছে। কিন্তু একটি ঘটনায় জড়িত ১২৫ জনের মধ্যে বেশির ভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সাধারণ মানুষের পক্ষে বিষয়টি মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। কঠিন বললে কম বলা হবে। তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে প্রস্তুত নন। কেননা, একসময়ের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই করুণ পরিণতি কি মেনে নেওয়া যায়! না, যায় না। মুক্তিযুদ্ধসহ সে সময়ের প্রতিটি আন্দোলনের নেতৃত্ব যে প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা দিয়েছে— তাদের এই করুণ পরিণতি কি মেনে নেওয়া যায়! আমরা এই অধঃপতনকে মেনে নিতে পারি না। সম্ভবত জাতির জীবনে, মুহূর্তটি খুবই বেদনাদায়ক।

ঈদের পরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তথ্য মতে, গোয়েন্দা সংস্থা অভিযুক্তদের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ছাত্রত্ব বাতিলের আবেদন জানিয়ে সিআইডির চিঠি যাচ্ছে ঢাবি কর্তৃপক্ষের কাছে। অভিযুক্ত ৮৭ জনের মধ্যে ২১ জন ছাত্রীর কথাও শোনা যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া এবং জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এই ৮৭ জনের ১৫ জনকে বহিষ্কার করে। অভিযুক্ত হিসেবে বাকি যাদের নাম সিআইডির তদন্তে এসেছে, তাদের বিষয়ে শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদের প্রশ্নে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা আমাদের হেডেক নয়। মাথাব্যথা অন্যত্র। আমরা মনে করি, একসময়ের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড কী তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ঘুরে দাঁড়াবে? ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা এই পাদপীঠ থেকে সব নৈতিকতা হারিয়ে যাবে!

আমরা মনে করি, সর্বাগ্রে এ অবনতির কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। তারপর পরিশুদ্ধ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি রোগ নির্ণয় করা না হয়, নির্ণয় করা না যায় এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া না হয়— তাহলে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে, যা কোনো দেশপ্রেমিকের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিকার নয়, আমরা আমাদের হারানো সেই ঐতিহ্যকে ফিরে পেতে চাই।

পিডিএসও/তাজ