স্বাগত বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯

প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৯, ১০:১৪

সম্পাদকীয়

ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে ওভালে আজ শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯।

গোটা লন্ডনে বাইরে থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের তাপ অনুভব করা বেশ শক্ত। তবে ওভালে প্রবেশের পর অনুভব পাল্টে যেতে বাধ্য। সাজের মধ্যে একটা আভিজাত্য বজায় রেখেই নিজেকে সাজিয়েছে এই ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও গ্যালারি। লন্ডনের এ মাঠে যে বিশ্বকাপের শুরু হতে চলেছে, তার প্রবেশপথে রূপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ব্যানার, ফেস্টুন, কাট-আউটসহ আরো কিছু নান্দনিক শিল্পকর্ম।

বিশ্বকাপ এবার রানের বন্যায় ভাসবে। এ রকমটাই ভাবছেন ক্রিকেটবিশেষজ্ঞরা। তবে ক্রিকেট সব সময়ই আনপ্রিডিকটেবল। এই আনপ্রিডিকটেবল শব্দটি বিশেষজ্ঞদের ভাবনায় চিড় ধরাতে পারে। পিচের বর্তমান অবস্থার ওপর ভরসা করে যে ভাবনা, সেই পিচও তার চরিত্রে রূপান্তর ঘটাতে পারে যেকোনো সময়। তাই অঘটনের আশঙ্কাও কম নয়। যাদের ছোট দল হিসেবে ভাবা হচ্ছে, সেখান থেকেও চমক আসতে পারে যেকোনো সময়।

এ তো গেল বিশ্ব ক্রিকেটের কথা। এখানে তৈরি হয় ভালোবাসার গল্প। কিন্তু রাজনীতির বিশ্ব এখন সম্পূর্ণ বিপরীতে। সেখানে ভালোবাসার কোনো গল্প নেই। আছে ঘৃণা ও বিদ্বেষের কাহিনি। পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ সেই ঘৃণা ও বিদ্বেষের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ইয়েমেন জ্বলছে বিদেশি আগ্রাসনে। এশিয়া-অফ্রিকার দেশে দেশে সংঘাত আর মহামারি। ফিলিস্তিনের মাটিতে কারো ঘুম নেই। সন্ত্রাসে পুড়ছে মানব জীবন। ঘুম নেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। এরপরও ভালোবাসা আছে। আছে বলেই আমি, তুমি এবং আমরা আছি।

আলোর বিপরীতে যেমন অন্ধকারের বসবাস। ঠিক একইভাবে ভালোবাসার বিপরীতে আছে ঘৃণা। একে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এটাই পৃথিবী ও প্রকৃতির নিয়ম। নিয়ম বিশ্বব্রহ্মান্ড অথবা মহাবিশ্বের। এসব নিয়েই আমাদের চলতে হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। তবে মানুষ সব সময়ই সমর্থন করেছে ভালোবাসাকে। যেখানে প্রাণ আছে, সেখানেই আছে প্রেম। এই প্রেমই মানুষকে গতিশীল করে। আর গতি মানুষকে সভ্যতার এভারেস্টে পৌঁছে দেয়।

এভাবেই এগিয়েছে সভ্যতা। এখন সেই সভ্যসমাজেই আমাদের বসবাস। আমরা একটি নান্দনিক পৃথিবী দেখতে চাই। চাই ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ এক মৃন্ময় পৃথিবী। ক্রিকেট আমাদের সেই বন্ধন গড়ার কাজে নিরলস কাজ করে চলেছে। আর বিশ্বক্রিকেট সেই কাজের ক্ষেত্রে তৈরি করছে ভালোবাসার মেলবন্ধন। এ মেলবন্ধন চিরন্তন হোক। হোক ভালোবাসার জয়।

পিডিএসও/হেলাল