জিরো টলারেন্সকে স্বাগত জানাই

প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৯, ১০:২৫

সম্পাদকীয়

ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ হলে ছক্কা অবধারিত। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতামত অনেকটা এ রকম। ব্যাটসম্যানকে তখন রানের জন্য দৌড়াতে হয় না। ক্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে থেকেই বলের পাখা মেলে উড়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় কিছু আনন্দ যে তাকে নাড়া দিয়ে থাকে, তা সেই খেলোয়াড়ের বডি ল্যাংগুয়েজই স্মরণ করিয়ে দেয়। রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি সমভাবে প্রযোজ্য।

বলা হয়েছে, ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগের কথা। এখানে সংযোগটি নির্ভুল হওয়ায় ফলাফলও সম্মানজনক হয়েছে। রাজনীতিতেও এ সংযোগ যখন নির্ভুল হবে, তখন ফলাফলও ইতিবাচক হবে—এটাই স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পুরোনো সিদ্ধান্তের কথা নতুন করে জানালেন। গত সোমবার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বললেন, ‘দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকার সব সময়ের জন্য জিরো টলারেন্সে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এখান থেকে সরে আসার কোনো পথ খোলা নেই। খোলা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য তা অবরুদ্ধ। তিনি বলেছেন, জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের নির্বাচিত করেছেন, তাদের সে বিশ্বাস ও আস্থা যেন অটুট থাকে।’

রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীও সেই একই কাজ করে আসছেন এবং অনুসারীদের বলছেন অনুসরণ করতে। শপথ গ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কাজ করবেন। নিজেকেও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন। সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেবেন না। জঙ্গিবাদকে নির্মূল করার প্রশ্নে সর্বসাধারণকে নিয়ে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করাই সরকারের লক্ষ্য—এ কথা মনে রেখেই মাদকের বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন শপথে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর এ কাজের মধ্য দিয়েই প্রমাণ করতে হবে, আমরা জনগণের আস্থা রক্ষা করতে পেরেছি এবং বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি।’ প্রধানমন্ত্রীর বডি ল্যাংগুয়েজই বলে দেয়, রাজনীতির ময়দানে তিনি ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ করতে কতটুকু সক্ষম হয়েছেন।

এবার পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার কথা। তিনি বলেন, ‘বাজেটে বিপুল পরিমাণ যে অর্থের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে; সে অর্থ কোনো ব্যক্তিবিশেষের নয়। অর্থের মালিক এ দেশের জনগণ। আর সেই অর্থের শক্তি থেকে অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হবে, তার সবটুকুই তুলে দিতে হবে মালিকদের হাতে। আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাষ্ট্রের মালিক হচ্ছে জনগণ।’ আমরা মনে করি, সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এসব প্রতিরোধ প্রশ্নে যে জিরো টলারেন্সের সিদ্ধান্ত দিয়েছে; তাকে ইতিবাচক বলা যেতেই পারে। প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের প্রতি ভবিষ্যতেও যে অটল থাকবেন, সেটুকুই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল