আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাটি ও মানুষকে রক্ষাই জরুরি

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৯, ১১:০০ | আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ১১:১৭

সম্পাদকীয়

ঘূর্ণিঝড় আইলার কথা আমাদের মনে থাকার কথা নয়। কারণ সে আঘাত আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত যারা, তাদের ঘা এখনো শুকায়নি। ক্ষত নিয়েই এখনো লড়াই করছেন। ২০০৯ সালের ২৫ মে ‘আইলা’ আঘাত হানে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি, খুলনার কয়রা ও দাকোপ উজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে যায়। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১৪ থেকে ১৫ ফুট বেশি উচ্চতার লোনাপানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। ভেসে যায় মানুষ, গবাদিপশু, ঘরবাড়িসহ সবকিছু। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি সেখানকার মানুষের জীবন সংগ্রাম। তবে দশ-দশটি বছর পেরিয়ে এলেও মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি ওই এলাকার প্রাণ ও প্রকৃতি। ক্ষত সারিয়ে এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি সেখানকার মানুষরা। এ সময়ের মধ্যে অনেকেই এলাকা ছেড়েছেন। আর যারা আছেন, তারা ভালো নেই।

তথ্য মতে, সর্বত্রই পানি থৈ থৈ করলেও এলাকায় খাবার পানি নেই। আইলার আগে এলাকাবাসীরা সরকারি পুকুরের পানি পিএসএফের মাধ্যমে পেতেন। আইলার পর তাও বন্ধ হয়ে গেছে। লোনা পানি প্রবেশের কারণে আজও সেসব পুকুরের পানি পানযোগ্য হয়নি। ভ্যানে করে ব্যবসায়ীরা পানি এনে এখানে তা বিক্রি করেন। আর সেই পানিই এখন সুপেয় পানি পাওয়ার একমাত্র উৎস। আইলার পর টানা দুই বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাওয়ার পানি সরবরাহ করা হয়েছিল। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেখানে ব্যাপক মাত্রায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

নতুন জলাধার তৈরির কথা ভাবছেন সরকার। সরকারের এই ভাবনা কতটা তড়িৎ গতি পাবে তা আমাদের জানা নেই। তবে যত বেশি দ্রুততর হবে এলাকার মানুষরা তত বেশি উপকৃত হতে পারেন। দু-এক বেলা ভাত না খেয়েও দিনটা পার করে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু খাবার পানি ছাড়া মুহূর্ত পার করাও কঠিন। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাটাই সময়ের দাবি। আশাকরি, সরকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

স্থানীয় সূত্র মতে, আইলার আগে এখানে ধানের ফলন ছিল ভালো। আইলার পরে লবণাক্ততার কারণে এখন আর ধান চাষ হয় না বললেই চলে। এলাকায় চিংড়িঘের ছাড়া কোথাও আর কোনো কাজ নেই। এলাকাজুড়ে যে বৃক্ষের সমাহার ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে ঝড়ের তান্ডব আর লবণাক্ততার কারণে। নতুন করে গাছ লাগিয়েও বাঁচানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এত কিছুর পর এখনো বাঁচার তাগিদে মানুষ বাড়িতে ফল ও সবজি খেত করার চেষ্টা করছে। ঘরে ঘরে এখন গরুর উপস্থিতি বেঁচে থাকার সংগ্রামকে আলোকিত করেছে।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের এ সংগ্রাম সব ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে তাদের এ সংগ্রামের পাশে পূর্ণ সমর্থনসহ সরকারের ভূমিকাকে হতে হবে ইতিবাচক। একই সঙ্গে দেশের বিত্ত্ববানেরা যদি সরকারের ভূমিকার পাশে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে বিষয়টি হতে পারে অনেক বেশি নান্দনিক। আমরা সেই নান্দনিকতার প্রত্যাশায় রইলাম।

পিডিএসও/হেলাল