রোজার প্রতি আনুগত্য চাই

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ০৯:২২

সম্পাদকীয়

কেবল ইমানদাররাই নন। সবাই। পাশাপাশি ইসলামি লেবাস চাপিয়ে ভণ্ড ও প্রতারকদের কাফেলাও দেখা যাচ্ছে সর্বত্রই। সবাই ভীষণ ব্যস্ত। চলছে মাহে রমজান। ইমানদাররা তাদের ইবাদতের গভীরতাকে উপলব্ধি করে আরো গভীরতর করার লক্ষ্যে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। তারা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংযমের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। জ্ঞাত-অজ্ঞাত পাপের জন্য করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়তই ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। বোধের দরজা খুলে কাল্ব পরিচ্ছন্ন করার কাজে লিপ্ত থেকেছেন। অর্থাৎ পবিত্র এই রমজান মাসে নিজেকে একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিমগ্ন রেখেছেন।

ইসলামি লেবাসধারীরা! যাদের কাছে, ধর্ম হচ্ছে লাগামহীন এক মুনাফা বাণিজ্য। আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলা বা নির্দেশ মান্য করা সম্ভবত এদের কর্ম নয়। তাই পবিত্র এই রমজানের বিশেষ নির্দেশনার প্রতি তাদের কোনো আনুগত্য নেই বললেই চলে। কর্ম বলতে এরা অবৈধ এবং অনৈতিক পথে শুধু টাকা উপার্জন করাকেই মনে করে। আর সে কারণেই এদের কল্যাণে রোজার বাজারে কী নেই! সবকিছুই পাবেন। কেজি দামে পেতে পারেন বিবিধ ও রকমারি ভেজাল এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, যা কখনোই কোনো ব্যারোমিটারে মাপা সম্ভব হয়নি।

সামনে ঈদ। ঈদ বলে কথা! বছরের একটাই সুযোগ। অনৈতিক অর্থ উপার্জনের এমন সহজ রাস্তা বোধ হয় পৃথিবীর আর কোনো দেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে কোনো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এ দেশের মতো ধর্মকে চার বানিয়ে মৎস্য শিকারের ব্যবস্থা আছে বলে কেউ প্রমাণ উত্থাপন করতে পারবেন বলে মনে হয় না। বরং এর বিপরীতটিই চোখে পড়ে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পণ্যের দাম কমিয়ে ক্রেতাপক্ষের ক্রয়ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতটুকু চাইবার ক্ষমতা বা যোগ্যতা কিংবা উপযুক্ততা, কোনোটাই যখন নেই, তখন আর কী করা! চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকাটাই হোক দেশ ও জাতির গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্ম।

আগেই বলেছি, ঈদ বলে কথা! চারপাশে শুধু রঙের বাহার। মাছে রং, গাছে রং, ফলে রং, প্রতারক আর ভণ্ডের মনে রঙের বাহার। এত সব বাহারি রঙের মধ্যে নতুন রঙের প্রলেপে আঁকা হচ্ছে নৌপথ। না, সরাসরি নৌপথকে নয়। এই পথে যেসব যানবাহন চলাচল করবে সেখানেও রঙের বাহার। ব্যস্ত ডকইয়ার্ড। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রী বহনে পুরোনো লঞ্চ মেরামতেই এসব ডকইয়ার্ডের ব্যস্ততা। ফিটনেসবিহীন লঞ্চে জোড়াতালি ও রঙের প্রলেপ দিয়ে সাজানো হচ্ছে বাহন। অথচ এই কর্মযোগের গভীরে যে কতজনের প্রাণহানির খবর লুকিয়ে আছে, এ মুহূর্তে বলা কঠিন হলেও নির্দ্বিধায় বলা যায়, এদের ঈদযাত্রা সরল হবে না। পদে পদে বিপদের সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

আমরা মনে করি, ঈদযাত্রাকে বিপদমুক্ত করার জন্য সরকারকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেননা, সাধারণের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। আর এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নজরদারির ব্যাপকতা এবং কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করাই হবে বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ।

পিডিএসও/হেলাল