স্বস্তিকর হোক এবারের ঈদযাত্রা

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৯, ১১:৫৬

সম্পাদকীয়

ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় সড়ক-মহাসড়কে যানজট। এতে মানুষের ঈদের আনন্দ অনেকাংশেই ফিকে হয়ে যায়। কারণ, ঈদ উপলক্ষে সড়কে যাত্রীর চাপ থাকে বেশি। অন্যদিকে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার মতো বিড়ম্বনা মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলে। এ ছাড়া সড়ক যদি চলাচলের অনুপযোগী থাকে, তাহলে তো কষ্টের আর সীমা থাকে না। তখন মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠে।

তবে আশার কথা, আসন্ন ঈদে সড়কপথে বড় ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই মানুষ ঘরে ফিরতে পারবে। এরই মধ্যে সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিনটি সেতু ঈদের আগেই খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। যদিও ঢাকা-ময়মনসিংহ ও গাজীপুর-কালিয়াকৈর সড়কে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সব শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তিকর হবে এবারের ঈদযাত্রা।

গতকালের প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘সড়কপথে ঈদযাত্রা’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ঈদে লক্ষাধিক লোক রাজধানী ছাড়বে। এ ছাড়া পাশের গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেড় কোটি মানুষ ঈদ করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে রওনা দেবে। তাদের এই যাত্রা শুরু হতে পারে ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকে। এ যাত্রা হচ্ছে ঝড়-বৃষ্টির মাসে। এমনিতেই ঈদের সময় সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এলোমেলো হয়ে যায়। তার ওপর রয়েছে মহাসড়কের বেহাল দশা। এসব রাস্তাঘাট মেরামত ও চলাচল উপযোগী না করলে যাত্রীদের অশেষ দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তবে আশার বাণীও কম নয়। মেঘনা ও গোমতী সেতু সংস্কারের কারণে এ সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট নিয়মিত ব্যাপার ছিল। সব কিছু ঠিক থাকলে ২৫ মে খুলে দেওয়া হবে সেতু দুটি। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতি আসবে, কাটবে স্থবিরতা। অন্যদিকে, দেশের ব্যস্ত সড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অন্যতম। ২০১৬ সালে দুই লেনের মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যার কাজ এখন শেষের পথে। আগামী ঈদে সেগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এদিকে, গাজীপুর-কালিয়াকৈর সড়কে দুর্ভোগের শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন বিড়ম্বনায় বেশ ভুগতে হতে পারে ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকায়। সেক্ষেত্রে বিপাকে পড়বে ময়মনসিংহ রুটের যাত্রীরা। ভুলতা-গাউছিয়া ওভারপাস খুলে দেওয়ায় এবার আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। সেক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য হবে ওই এলাকায় চলাচল।

তবে রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এবার ঈদযাত্রা অনেক স্বস্তিদায়ক হবে। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার পরিস্থিতি অনেক ভালো। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হওয়ায় ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ হবে না।’ ঈদ মৌসুমে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অত্যধিক বেড়ে যায়। এ সুযোগে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি নামানো হয় রাস্তায়। এসব গাড়িও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উচিত, যত দ্রুত সম্ভব দেশের বেহাল সড়ক-মহাসড়কগুলোকে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা, অন্তত বেহাল সড়কের কারণে যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।

পিডিএসও/হেলাল