নদীরক্ষা পরিকল্পনাকে স্বাগতম

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৯, ১৩:৪১

সম্পাদকীয়

এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ যুগ চলে গেছে অতীতের গহ্বরে। অপেক্ষার পালা শেষ। বহু দিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অবসান হতে চলেছে। নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ। এই স্বপ্নকে বুকে নিয়ে এ দেশের মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বহুকাল। রাজা আসে রাজা যায়। এর মাঝে ৬০টি বছর চলে গেছে। কিন্তু মানুষের মনের কোনায় জেগে থাকা এই কান্নার ধ্বনি কেউ শুনতে পায়নি। অথবা বলা যায়, তাদের কেউই শুনতে চাননি। তবে অনেক দেরিতে হলেও সেই কান্নার ধ্বনি একজনের হৃদয়ে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে। আর আকাক্সক্ষা পূরণ হতে চলেছে জাতি ও রাষ্ট্রের।

দেশের নদ-নদীগুলোকে দখলমুক্ত রাখতে সরকার প্রণয়ন করতে যাচ্ছে একগুচ্ছ স্থায়ী পরিকল্পনা। যার মধ্যে রয়েছে নদীকে দখলের হাত থেকে রক্ষা করা। দূষণরোধে ও রক্ষায় আইনের নতুন ধারা সংযোজন। নদীতে আবর্জনা, বিষাক্ত বর্জ্য না ফেলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং নদীর বর্জ্য উত্তোলনের জন্য বর্জ্য উত্তোলন উপযোগী জাহাজ ক্রয়। এ ছাড়াও রয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি।

তথ্যমতে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩২টি নদীবন্দর রয়েছে। স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী কাল থেকে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এগুলোর সীমানা চিহ্নিত করা হয়। ১৯৬০ সালে ঢাকা ও খুলনার বেশ কয়েকটি নদীবন্দরকে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেটও প্রকাশ করা হয়। প্রায় ৫৮ বছর পর মেঘাইঘাট-নাটুয়াপাড়া নদীবন্দর স্বীকৃতি পায় গত ১৩ জানুয়ারি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নগরবাড়ি-কাজিরহাট নরাদহ ও টংগী বাদে স্বীকৃতির বাইরে অর্থাৎ সীমানা চিহ্নিত করা হয়নি ২৮টি নদীবন্দরের। এদিকে সীমানা নির্ধারিত নদীবন্দরের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে নদীর অস্তিত্ব যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন নতুন করে সীমানা নির্ধারণ হয়নি—এমন নদীবন্দরের কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

দূষণ ব্যারোমিটারে বাংলাদেশের অবস্থান সবারই জানা। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব তো আছেই। তাই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় আমাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। আর ঠিক সে রকম এক মুহূর্তে বর্তমান সরকারের এ সিদ্ধান্ত জাতির দীর্ঘদিনের জমে থাকা আকাঙ্ক্ষার পরিপূরক বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। দেশ ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত হতে পারে একটি মাইলফলক। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারের জন্য হবে সফলতার একটি উৎকৃষ্ট উপমা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যুক্ত হতে পারে উজ্জ্বলতম একটি নক্ষত্র।

আমরা আশাবাদী। সরকার ইতোমধ্যেই তার কর্মদক্ষতার মধ্য দিয়ে আমাদের সেই আশাবাদকে কিছুটা হলেও জাগ্রত করতে সমর্থ হয়েছে। তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের দুই পাশে ১৬ হাজার ২২৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তীরভূমি ও জমির পরিমাণ ৬০১ দশমিক ৩২ একর। নদীরক্ষা কমিশন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি নদীর জায়গা সংরক্ষণে একাট্টা। আর সরকারেরও এতে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আর সে কারণেই আমরা বিশ্বাস করি, সারা দেশে নদ-নদীগুলো দখলদার ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

পিডিএসও/হেলাল