জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ চাই

প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৯, ১০:০০ | আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ১০:১৩

সম্পাদকীয়

রোগটা নতুন নয়। সনাতন না হলেও অনেক পুরোনো। দুঃখজনক বলি বা দুর্ভাগ্যজনক! যাই বলি না কেন, ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নিয়ে রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বের ১১ নম্বর ম্যাগাসিটি। রাজধানীর মানব প্রজনন ক্ষমতা অনেকের কাছে ঈর্ষণীয় হলেও ঢাকা মহানগরবাসীর কাছে তা যেন আজ এক তেতো-বিরক্তের মতো যন্ত্রণাদায়ক, পীড়াদায়ক বস্তুবিশেষ। সম্ভবত এ মহানগর আজ নিজের চাপে নিজেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। তবে এক দিনে অবস্থা এমন অসহনীয় পর্যায়ে আসেনি। মহানগরের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিই যেন ঢাকাকে এমন ঘন বসতিপূর্ণ শহরে পরিণত করেছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, কোনো ধরনের অলৌকিক প্রক্রিয়ার আওতায় না পড়লে বা কোনো অঘটন না ঘটলে ২০৩৫ সালে এই মহানগরের লোকসংখ্যা হবে তিন কোটি, যা কেবল ঢাকা মহানগরবাসীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না, পুরো দেশবাসীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

১৯৮১ থেকে ৯১ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ বছরে সিটির লোকসংখ্যা বাড়ে প্রায় ২৮ লাখ। আর ২০০১ থেকে ১১ পর্যন্ত বাড়ার পরিমাণ প্রায় ৪৬ লাখ। শুরু থেকে সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা না থাকার কারণেই এখানকার পরিবেশের আজ এই অসহনীয় অবস্থা। ধাপে ধাপে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হলেও এর ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা করেনি কেউ। না অতীতে, না এখন। বছরের পর বছর উল্লেখযোগ্য হারে রাজধানীর জনসংখ্যা বাড়তে থাকলেও, সরকারি নীতিনির্ধারণে কখনোই সমস্যাটি তেমন কোনো গুরুত্ব পায়নি। জাতীয় জনসংখ্যা কাউন্সিলের কার্যক্রম না থাকায় রাজধানীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কোনো তৎপরতাও নেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পথে তেতো-বিরক্ত মানুষরা পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সে পরামর্শ কেউই আমলে নেয়নি। না রাজা, না রাজন্যবর্গ। কিন্তু কেন এ অনীহা, তা আজও জানা যায়নি।

তবে কারো কারো মতে, বাংলাদেশের মোট সম্পদকে এক জায়গা থেকে সঞ্চালন করতে পারলে লভ্যাংশ কুক্ষিগত করা সহজতর হয়। একটি সিন্ডিকেটের হাতে চলে আসতে পারে সেই সম্পদ। আর সে কারণেই থেমে গেছে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী থেকে জনসংখ্যার ঊর্ধ্বমুখী চাপ কমাতে হলে প্রয়োজন প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ। তা করা না গেলে মহানগরের জনস্বাস্থ্য থেকে আবাসন পরিস্থিতি, সবকিছুই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আমরা মনে করি, এ সমস্যার একমাত্র সমাধান বিকেন্দ্রীকরণ। আর এ কাজ বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা, সাহস এবং যোগ্যতা যদি কারো থেকে থাকে—তা আছে একমাত্র সরকারের। তবে সে সরকারকে অবশ্যই দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে।

পিডিএসও/হেলাল