ব্যবসার মৌসুম নয় ‘রমজান’

প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৯, ১১:০১

সম্পাদকীয়

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি বলেছেন, ‘রমজান কোনো ব্যবসার মৌসুম নয়, এটা ব্যবসায়ীদের মাথায় রাখা উচিত।’ তার এ বক্তব্য কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে। তবে পবিত্র এই রমজান মাসে ভেজাল ও বিষযুক্ত খাদ্যপণ্যে বাজার যে সয়লাব হয়েছে, সে ব্যাপারে মতবিরোধের কোনো সুযোগ নেই অন্তত এ দেশে। মুড়িতে হাইড্রোসালফাইড, বেগুনি-পেঁয়াজু-চপ আর জিলাপিতে টেক্সটাইল রং, কেক-জেলি-সসে কৃত্রিম সুগন্ধি। খেজুর-সেমাই-হলুদ-ঘি, কোনোটাই ভেজাল বা বিষমুক্ত নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়ার তথ্য মতে, প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় খাদ্যপণ্যে ভেজাল দেওয়ার মহাপ্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ভেজাল দিতে গিয়ে তারা বিষ মেশাতেও দ্বিধা করছেন না। বলতে দ্বিধা নেই, এরাও মুসলমান। ইসলাম এদের ধর্ম হলেও ধর্মের বিধিনিষেধ মানুষকে শোনাতে এরা ভালোবাসলেও, মেনে চলতে নারাজ। আর সে কারণেই, লাগামহীন ঘোড়া ছুটিয়ে দেন খোলাবাজারে এবং তা রমজান মাসেই। ইসলাম যখন বলছে, এ মাস সংযমের মাস। আর তখনই এই ব্যবসায়ীরা কোমরে গামছা বেঁধে নেমে পড়েন অসংযমী চর্চার রিলেরেসে। তাদের এ চর্চা নতুন কিছু নয়। বয়সটা ৫০ ছুঁইছুঁই করলেও, বোধের উদয় ঘটেনি এখনো।

মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য মতে, বছরজুড়ে ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির রমরমা বাণিজ্য চললেও রমজান মাসে এসেও তা দাঁড়াতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, তা এখন চার গুণ হয়েছে। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রশাসনিক তৎপরতা- অপতৎপরতায় লিপ্ত সিন্ডিকেটের গলায় ঘণ্টা বাঁধতে পারেনি। ক্ষমতার ভারসাম্যে এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের ক্ষমতাকেই বেশি শক্তিশালী মনে হতে পারে। আর এ ভাবনার পেছনে অকাট্য যুক্তিও রয়েছে। আমরা অর্ধশতাধিক বছর ধরে এ ধারা চলতে দেখছি। থামার কোনো লক্ষণও কখনোই পরিলক্ষিত হয়নি। বরং সময়ের তালে তালে চক্রবৃদ্ধি হারে তা বেড়েছে।

আসলে ব্যবসায়ীদের ওপর দোষ চাপিয়ে কোনো লাভ নেই। তারা তো লাভের জন্যই ব্যবসা করছে। তবে সবকিছুরই একটা সীমা আছে এবং থাকা উচিত। কিন্তু সিন্ডিকেট এ যাবৎ কেবল বেশি মুনাফা লাভের সন্ধানে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। তারা নীতিনৈতিকতার ধার ধারেননি। কিন্তু যাদের ওপর নীতিনৈতিকতাকে ধরে রাখার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বা হয়েছিল, তারা কতটুকু তা পালন করেছেন! দেশের আপামর জনতা একবাক্যে বলবেন, তারা তা পালন করেননি বা করছেন না। আর সে কারণেই লাগামহীন চলছে ভেজাল বাণিজ্য। চলছে ভোগ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি। কোনোভাবেই তাকে থামানো যাচ্ছে না।

আমরা মনে করি, এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। অন্যথায় এর সমাধান সম্ভব নয়। আমরা পবিত্র এ রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের সব ক্ষেত্রে সেই পবিত্রতার স্পর্শ পেতে চাই। আশা করি, সরকার ও প্রশাসন এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে—এটাই সময়ের দাবি এবং প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল