খোশ আমদেদ মাহে রমজান

প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৯, ০৯:০৭

সম্পাদকীয়

মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বাণী নিয়ে আবারও ফিরে এলো রমজানুল মোবারক। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। মহান আল্লাহতায়ালা প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ-সবল সব মুসলমান নর-নারীর জন্য রোজা রাখা ফরজ বা বাধ্যতামূলক করেছেন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে।

পরিশুদ্ধতা, খোদাভীতি অর্জন, ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাস এই মাহে রমজান। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল হয়েছে এ মাসেই। শ্রেষ্ঠ রজনি লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে মহিমান্বিত। তাই সবদিক থেকে মুসলমানদের কাছে মাসটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ। রোজা মানুষকে আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। সৎ, সুন্দর ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে জীবনযাপনের জন্য রোজার মাস হচ্ছে অনুশীলনের।

এ মাসে মুসলমানরা তাদের দেহ ও আত্মা পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পান। তাই এ মাসের শিক্ষা বছরের বাকি সময়ে কাজে লাগাতে হবে। দীর্ঘ এক মাস সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার, ভোগবিলাস ও অসৎকর্ম হতে বিরত থেকে মুমিনগণ রোজা পালন করে আত্মশুদ্ধি ও কৃচ্ছ্রসাধনে ব্রতী হন। কেবল পানাহার ও ভোগবিলাস থেকেই বিরত থাকা সিয়ামের শর্ত নয়, প্রকৃত সিয়াম সাধনা হচ্ছে সব ধরনের অন্যায় ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকা। এ শিক্ষা শুধু রোজার মাসের জন্যই নয়, বছরব্যাপী রোজার শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে। সিয়ামের মাধ্যমে আত্মিক ও নৈতিক উন্নতি ঘটে। লোভ-লালসা, হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে রোজার মূল চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে।

রমজানে বিশেষ কিছু খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা বেড়ে যায়। পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা দোকানিরা বাড়তি চাহিদাকে মুনাফা লোটার হাতিয়ার করে তোলেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকারকে এ সময়ে চাল-ডাল-চিনি-ভোজ্যতেল-ছোলা-বুটসহ প্রধান খাদ্যশস্যের দামের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে। রমজানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকট মানুষের দুর্ভোগের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নগরজীবনে এসব অপরিহার্য উপকরণগুলোর সংকট নিরসন আমাদের একান্ত কাম্য। যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে রমজানে একশ্রেণির মানুষ সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধনের পরিবর্তে ভোগবিলাসে মেতে ওঠে। ভোগবিলাস ও যথেচ্ছাচার ত্যাগ করে সহজ, সুন্দর ও অনাড়ম্বর জীবনাচারে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় পবিত্র রমজানে। তাই সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব রয়েছে গরিবদের পাশে দাঁড়ানোর। গরিব-দুঃখীদের বিপদে তাদের সহায়তা দান রমজানেরই শিক্ষা। এ মাস মুসলমানদের জন্য আত্মিক, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উন্নতির সুযোগ এনে দেয়। এমন এক মাসে দেশের সব মুসলমান ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব এবং শান্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সবাই সচেষ্ট হবে।

পিডিএসও/হেলাল