নতুন শ্রমবাজারের খোঁজে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৯, ১০:০০

সম্পাদকীয়

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে। এ সংকোচনের ফলে কিছুটা হলেও বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ প্রভাব এড়াতে বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেছে নতুন কৌশল। বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজছে বাংলাদেশ। সরকারের টার্গেটে এখন জাপানসহ সাত দেশ। গত বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর হার কমেছে। এ কারণে রেমিট্যান্সের ওপর এখনো কোনো চাপ পড়েনি। উপরন্তু বলা যায় পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। আর এ বৃদ্ধির হার ২ লাখ ডলার।

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সরকার নতুন বাজারের সন্ধানে নেমেছে। বিকল্প দেশ হিসেবে পোল্যান্ড ও আলজেরিয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই এ ভাবনাকে মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হয়। আর ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হয়।

শ্রম অভিবাসন-সংক্রান্ত এক তথ্যে বলা হয়, ১৯৭৬-২০১৮ পর্যন্ত মোট শ্রম অভিবাসনের সংখ্যা ১ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার। এ সময় প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৩ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৩৪ হাজার এবং নারীকর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৬৯৫ জন। গত বছর রেমিট্যান্সপ্রাপ্তির পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি ২০১৭ সালে অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ এবং রেমিট্যান্স হিসেবে পাওয়া যায় ১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। হিসাবমতে, শ্রমশক্তি খাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান থেকে আয় হয় ১২ শতাংশ এবং জিডিপির অংশ হিসেবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

যদিও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখছেন প্রবাসী বাঙালিরা। কিন্তু তাদের অভিবাসন ব্যয় নির্বাহ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সই দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। অন্যান্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এ খাতে নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ব্যয়ই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আমরা মনে করি, সরকার এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সরকারের এ উদ্যোগ দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। কেননা বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতার দামামা বেজে উঠেছে, যেকোনো সময় পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এর সম্ভাবনা তীব্র। প্রতিনিয়তই যার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং দেরি না করে আমাদের উচিত নতুন কর্মক্ষেত্রের সন্ধান করে তার সড়ক উন্মোচন করা। সরকার বিশ্বরাজনীতির কথা মাথায় রেখেই সে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে চলেছে বলেই আমদের বিশ্বাস।

 

পিডিএসও/হেলাল