সরকারের সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত

প্রকাশ : ০৫ মে ২০১৯, ১৪:৫১

সম্পাদকীয়

একসময় ঢাকাকে বলা হতো প্রাচ্যের ভেনাস। আমরা বলতাম তিলোত্তমা নগরী। আর এই তিলোত্তমা নগরী অথবা প্রাচ্যের ভেনাস খেতাবটি অর্জনের পেছনে ছিল পাঁচটি নদীর ভূমিকা। যে পাঁচটি নদীই আজ মৃতপ্রায়। এই নদীগুলোর মৃত্যুর জন্য আমরাই দায়ী। প্রকৃত অর্থে আমরাই হত্যাকারী। নদীর পানি নষ্ট করেছি আমরাই। পাড় দখল অথবা ভরাট করে শীর্ণ করেছি এর অবয়ব।

ফলে, আমরাও হারিয়েছি সেই নান্দনিক ঢাকাকে। পেয়েছি দূষণে শীর্ষে থাকা এক মহানগর। যে পাঁচটি নদী এবং খালগুলোকে বলা হতো ঢাকার শিরা-উপশিরা, তাদের অবস্থা আজ এতটাই নাজুক, অপারেশন ছাড়া আর কোনো বিকল্পের কথা ভাবা যাচ্ছে না।

অনেক দেরিতে হলেও সরকার সে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ। সরকার মনে করছে, রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদীর তীরভূমি থাকবে নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ। নদী ফিরে যাবে তার হারানো অতীতে। জবর দখল বা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে তার প্রকৃত অবয়ব। এমনটাই ভাবছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আর সে কারণেই আবার বড় ধরনের উচ্ছেদে নামার পক্ষে মন্ত্রণালয়। তাদের নজর এবার শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড এবং শিপবিল্ডার্সদের দিকে।

নদীর কূলঘেঁষে এ ধরনের অবৈধ দখলদারের সংখ্যা কম নয়। গড়ে ওঠা এ ধরনের স্থাপনার সংখ্যা শতাধিক। পরিবেশগতভাবে নদীর জন্য এগুলো মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। কমিশন বলছে, এই স্থাপনাগুলোর কারণে নদীর নাব্য সংকট ক্রমেই ঘণীভূত হয়েছে এবং হচ্ছে। তথ্য মতে, এ রকম অনেক স্থাপনার মালিকের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে বছরের পর বছর তারা ব্যবসা করে আসছেন।

তবে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার শুরুতেই নদী রক্ষায় অনড় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। অবৈধ স্থাপনা অপসারণে নামে কর্তৃপক্ষ। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ যাবৎ তাদের চলমান এ অভিযান ঢাকাবাসীর মনে আশার আলো জাগাতে সক্ষম হয়েছে। এ আলো আরো বিকশিত হবে-এটাই তাদের বিশ্বাস।

তথ্য মতে, বুড়িগঙ্গাকে নিয়ে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে। আর এই মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ শতাধিক শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড ও শিপবিল্ডার্স সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বুড়িগঙ্গার পানি একসময় পানযোগ্য ছিল। কিন্তু দখল-দূষণের কারণে বর্তমানে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। তাই ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। রক্ষা করতে হবে নদীর তীরভূমি। তবে মালিকপক্ষ সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। যথাবিহিত তদবিরও চলছে। সম্ভবত এবার কোনো তদবিরে কাজ হবে না। নদীরক্ষা প্রশ্নে সরকারের অনড় ভূমিকা সে কথাই বলছে।

আমরা মনে করি, এই স্থাপনাগুলোকে নদীর তীর থেকে অপসারণ করা গেলে বুড়িগঙ্গাকে ঘিরে সরকারের যে মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে, তা সফল করতে অনেক সহজ হবে। কেবল বুড়িগঙ্গাই নয়, যতগুলো নদী ও খাল রয়েছে- এরই ধারাবাহিকতায় সেখানকার উচ্ছেদ কর্মটিও সহজতর হবে। মহৎ এই উদ্যোগের সঙ্গে দেশবাসীও সরকারের পাশে থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

পিডিএসও/তাজ