গ্যাসের অপচয় রোধ সময়ের দাবি

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০৮

সম্পাদকীয়

মিডিয়া বলছে, ঢাকা ওয়াসার ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে পান করেন। আর এ পানি ফোটাতেই বছরে জ্বালানি বাবদ খরচ হচ্ছে ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ পানি বিশুদ্ধ করতে গিয়ে বাসাবাড়িতে গ্যাস পোড়ানো হচ্ছে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ঘনমিটার। যদি পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ওয়াসা নিশ্চিত করতে পারত, তাহলে এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সাশ্রয় হতো ৬৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি গ্যাস সাশ্রয় হতো ৭৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার।

একটু খোলামেলা আলাপচারিতায় বলা যায়, ভোক্তাকে পানি ফোটানো বাবদ জ্বালানি খরচ হিসেবে ব্যয় করতে হচ্ছে ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ টাকা যদি এ খাতে খরচ করতে না হতো, তাহলে সে তা অন্য খাতে ব্যয় করতে পারত। এখানে একদিকের সাশ্রয় অন্য খাতে ব্যবহার।

অর্থাৎ একই অর্থের দ্বিমুখী ব্যবহার। আর সে কারণেই লাভ অথবা লোকসান যাই হোক না কেন, টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ হিসাব গ্যাসের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। সেখানেও উল্লিখিত গ্যাসের দ্বিগুণ পরিমাণ ব্যবহারিক মূল্য পেতে পারত তিতাস।

বিশ্বের অনেক দেশেই ট্যাপ থেকে সরাসরি পানি পান করা যায়। এমনকি এশিয়ার অনেক দেশেই এ ব্যবস্থা বলবৎ আছে। কেননা, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দেশবাসীকে সুপেয়পানি সরবরাহে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াসা’ সে কাজটি করতে পারেনি বা ব্যর্থ হয়েছে। আর তাদের এ ব্যর্থতার দায় বহন করতে হচ্ছে রাষ্ট্র ও সাধারণ নাগরিককে। ওয়াসার বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠান বাজারে পানি বাজারজাত করছে, সে পানির বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনেক। সুতরাং বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের প্রশ্নে সবাইকেই বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর মানবজাতিকে নির্ভর করতে হচ্ছে গ্যাসের ওপরই।

আমরা মনে করি, গ্যাসের এ অপচয় রোধ করা গেলে অর্থাৎ ওয়াসা যদি সুপেয়পানি সরবরাহে সমর্থ হয়, তাহলে ঢাকা মহানগরের দেড় কোটি মানুষসহ রাষ্ট্রের জ্বালানি খাতও উপকৃত হতে পারে। পাশাপাশি এ কথাও সত্য যে, বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে স্বয়ং ‘ওয়াসা’কেই।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে, রাজধানীতে প্রতিদিন ১৪ লাখ ঘনমিটার পয়োবর্জ্য তৈরি হলেও ওয়াসার রয়েছে দেড় লাখ ঘনমিটার সক্ষমতার একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এ প্লান্টে প্রতিদিন পরিশোধিত হয় ৫০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য। এ ক্ষেত্রে সরবরাহে যেমন ঘাটতি রয়েছে, রয়েছে সুপেয়পানি তৈরিতে। তবে সরকারি উদ্যোগে কোনো ঘাটতি না থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওয়াসার ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। তথ্যমতে, ধীরগতিই বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায়। পদ্মা-যশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্প ২০১৩ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো এর কাজ চলছে। সায়েদাবাদ (ফেজ-৩) পানি শোধনাগার ২০১৪ সালে শুরু হয়। ২০২০ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ২ শতাংশ।

আমরা মনে করি, মহানগর ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতি সংশ্লিষ্টদের আরো মনোযোগী হওয়া দরকার। একইসঙ্গে টেকসই, পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা বৃদ্ধি আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে আমরা আশা করি, ঢাকা ওয়াসা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখবে।

পিডিএসও/হেলাল