উপযুক্ত শাস্তি হোক অপরাধীর

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩৫

সম্পাদকীয়

যখন শুনি স্কুলশিক্ষক তার ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন অথবা করার চেষ্টা করেছেন...তখন...! তখন একটি কথাই বারবার বোধের দরজায় বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে চেতনার চৌকাঠে। মনে হয়, আমাদের কিছু কিছু শিক্ষক অতীতের উঠোনে ফেলে আসা নীতিবান শিক্ষকদের নীতিনৈতিকতাকে আর বহন করতে চাইছেন না। তারা তাদের অনৈতিকতাকে নৈতিকতা মনে করে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষে সমাজে ক্ষতি করে চলেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র।

মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, আলিম পরীক্ষা দিতে গিয়ে গত শনিবার সকালে সোনাগাজীর একটি মাদরাসায় মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন এক ছাত্রী। মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বান্ধবীকে মারধর করা হচ্ছে—এমন সংবাদ দিয়ে ছাত্রীকে ক্লাসরুম থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে ঘিরে ধরেন মুখোশ পরা চার-পাঁচজন ছাত্রী। তারা শাসাতে থাকে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেন মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন? জবাবে ছাত্রীটি বলেছিলেন, তিনি মিথ্যা অভিযোগ করেননি। শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত তিনি তার সত্য এ অভিযোগ থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তারপর মুখোশ পরা ছাত্রীরা তার হাত-পা চেপে ধরে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। মেয়েটি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে এই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় ছাত্রীর মায়ের করা মামলায় অধ্যক্ষ এখন কারাগারে। এ ঘটনা নিয়ে মাদরাসায় এখন দুটি পক্ষ মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একটি পক্ষ বলছে, ঘটনা সত্য। বিপরীতে যারা রয়েছেন তারা বলছেন, না। এ ক্ষেত্রে বলতে হয়, ঘটনার সত্য-মিথ্যা প্রমাণের দায়িত্ব আমাদের নয়। এর জন্য আইন-আদালত রয়েছে। যখন আইন-আদালত উপেক্ষা করে একপক্ষ অবলম্বন করে এ রকম একটি পৈশাচিক কাজ সংঘটিত হবে, তখন আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব! ঘটনার শুরু ২৭ মার্চ ২০১৯। অধ্যক্ষ অর্থাৎ মাদরাসার প্রধান শিক্ষক অনৈতিকতার দায়ে এখন কারাগারে। আর সেই অনৈতিকতাকে আড়াল করার জন্য আরো একটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্ম। এ দায় কে বহন করবে?

অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে আমরা সমস্বরে বলবএ ধরনের শিক্ষক আমাদের লজ্জা, আমাদের ঘৃণা ও কলঙ্ক। বিষয়টি বিচারের দায় ছিল আদালতের। কিন্তু আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করার ধৈর্যটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। নিজেরাই তুলাদণ্ড হাতে তুলে নিয়ে আরো একটি জঘন্য ঘটনার জন্ম দিয়েছি। আমরা মনে করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক। কিন্তু ছাত্রীটির শরীরে যারা আগুন দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হোক। তাদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং দোষীদের উপযুক্ত দণ্ডে দণ্ডিত করা হোক। আমাদের সব শিক্ষকই নীতিবিবর্জিত নন। কিছু নীতিবিবর্জিত শিক্ষকের জন্য পুরো শিক্ষকসমাজ কলুষিত হোক, এটা কারো কাম্য নয়। আর এ কারণে শিক্ষকদের এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শিক্ষকসমাজকেও এগিয়ে আসা দরকার। আমরা আশা করতেই পারি, তারাও এ প্রশ্নে সোচ্চার হবেন।

পিডিএসও/হেলাল