কেমিক্যাল সরিয়ে অভিযান বন্ধ করা হোক

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৫১

সম্পাদকীয়

যত গর্জে তত বর্ষে না। প্রবচনটির সত্যতা সম্পর্কে নতুন করে বলে দেওয়ার কিছু নেই। শতসহস্র বছরের বাস্তবতার অভিজ্ঞতালব্ধ এ বাণী এতটাই নির্ভুল, একে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এ বাণী চিরন্তন। শতবর্ষ পরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোনো না কোনো কারণে এ বাণী উচ্চারণে বাধ্য হবে। ঠিক যেভাবে এখন বাধ্য হচ্ছি আমরা।

‘আমরা এখনো আগুনের সেই ভয়াবহতা ভুলতে পারিনি। ভয়াবহ সে দৃশ্যের কথা মনে হলে ঘুমের মধ্যে এখনো আঁতকে উঠি। ওই আগুন আমার একমাত্র ছেলেসহ অনেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অথচ যে ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেই ওয়াহিদ ম্যানশনের দোতলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রাসায়নিক এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এখানকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর কারণে শঙ্কিত এলাকাবাসী।’

শঙ্কা শুধু চুড়িহাট্টায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র পুরান ঢাকায়। এলাকায় ব্যবসা চালু রাখতে কৌশলী পন্থায় এগিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু হয়েছিল এবং তা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। অভিযান চলাকালে নদীর দক্ষিণ পারে সরেছে কিছু গুদাম। বাকিরা ঠিকানা বদল করে এলাকার মধ্যেই থেকেছেন। অর্থাৎ পুরান ঢাকা থেকে সরেনি রাসায়নিক।

চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযান আপাতত আর চোখে পড়ছে না। এলাকার অনেকেই মনে করছেন, এভাবেই শেষ হতে চলেছে অভিযান পর্ব। আর এখানেই যদি অভিযান পর্বের ইতি টানা হয়, তাহলে পুরান ঢাকা আগুন আতঙ্কের মধ্যেই থেকে গেল। এলাকার অনেকেই বলেছেন, আমাদের অভিজ্ঞতালব্ধ বাস্তবতা হচ্ছে ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’। সরকারের পক্ষ থেকে যত গর্জন শুনেছি, তার পুরোটার প্রতিফলন কখনো দেখিনি। আট বছর আগে পুরান ঢাকার নীমতলীতে একই কারণে যে ভয়াবহ আগুন-তাণ্ডব দেখেছিলাম এবং প্রতিকার প্রশ্নে সরকারের যে প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম, তার বিন্দুমাত্রও প্রতিফলিত হতে দেখিনি। আর প্রতিফলিত হতে দেখা যায়নি বলেই চুড়িহাট্টাকে আবার ঝলসে যেতে দেখলাম। তবে চুড়িহাট্টার অগ্নিকা-ের পর সরকার কিছুটা হলেও ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

ডিএসসিসির নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযান যেন শেষ হয়েও হলো না শেষ। অভিযান বন্ধের কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে অভিযান চলমান নেই। ভবিষ্যতে চলবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়নি। কিন্তু গুদাম ও কারখানার অবস্থান পরিবর্তন হলেও পুরান ঢাকাতেই থেকে যাচ্ছে রাসায়নিক দ্রব্যের মজুদ। এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে রাসায়নিক মজুদ রেখেই কৌশলী ব্যবসায়ীরা চালু রেখেছেন সব ধরনের কার্যক্রম। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোর সহযোগিতার অভাবে তেমন কোনো সফলতা নেই এবং চলমান সময়ে সেই সহযোগিতার অভাব এখনো রয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে বিষয়টি নীমতলীর মতো জনকল্যাণমুখী সরকারের নেওয়া এই বিশেষ উদ্যোগেরও একই পরিণতি হবে, যা দেশের কোনো সচেতন মানুষের কাম্য হতে পারে না।

পিডিএসও/হেলাল