অগ্রনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৯, ১৫:২৫

সম্পাদকীয়

বিস্ময়কর! শব্দটির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে একটি মিষ্টিমধুর সম্পর্কের বন্ধন গড়ে উঠেছে, তাকে আজ আর অস্বীকার করার কেউ নেই। একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি এখন আর তলাবিহীন নেই। তলা বা তলি লেগেছে। শুধু তলি লেগেছে বললে কম বলা হবে। অর্থনীতির অগ্রযাত্রা এমন একপর্যায়ে উপনীত হয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশের জন্য তা ঈর্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছায়।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অনেক দেশের জন্য আজ উন্নয়নের রোল মডেল। জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও আর্থসামাজিক প্যারামিটারে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিস্ময় হিসেবে বিশ্বদরবারে আত্মপ্রকাশ করেছে। এবার জিডিপির প্রবৃদ্ধি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ বিস্ময়কর সাফল্য এক দিনে আসেনি। রাজনৈতিক ও সামাজিক চড়াই-উতরাইকে যেমন পার হতে হয়েছে, একইভাবে মোকাবিলা করতে হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও।

সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আমাদের পারিবারিক সদস্য। তবু ভেঙে পড়েনি এ দেশের মানুষ। বেতের চরিত্রের মতো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে সবকিছু মোকাবিলায় যেন সব সময় তারা প্রস্তুত। আর সে কারণেই তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আজকের বিস্ময়কর বাংলাদেশ বলতে পারছে, ‘আমরাও পারি’।

উন্নয়নের চালিকাশক্তি অবশ্যই জনগণ। তবে এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বের কথাও বলতে হয়। সঠিক নেতৃত্বের কারণেই আজ আর্থসামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়াকে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতার তিন সূচকে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করায় জাতিসংঘ মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে আইএমএফের মূল্যায়ন হচ্ছে, দেশটি যেভাবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য দূর এবং বৈষম্য কমানোকে সংযুক্ত করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন উদাহরণ দেওয়ার মতো একটি দেশ। ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংক বলেছে, প্রধান ১২টি সূচকের মধ্যে ১০টিতেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে গেছে বা যাচ্ছে। ১৯৯০ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৭ শতাংশ, সেখানে এখন ২০১৮ সালে কমে হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

এ ছাড়া গড় আয়ু, শিশুমৃত্যুর হার, মেয়েদের স্কুলে পড়ার হার, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের হারের ক্ষেত্রেও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ সমপর্যায়ের উন্নয়নশীল দেশকেও পেছনে ফেলেছে। ২০১৫ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ২৪ ডলার। ২০১৮ অর্থাৎ আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৯ ডলার। স্বাধীনতার পরপরই এ দেশে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর, এখন সেই গড় ৭১ বছর। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের গড় আয়ু ৬৫ বছর। দি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। শাকসবজির উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে তিন গুণ।

উৎপাদনের এ চিত্রই বলে দেয় বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থান। কিন্তু এত কিছু ভালোর মধ্যে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সব উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছে একটি মানসিকতা। আমরা দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে উন্নয়নের গতি আরো ত্বরান্বিত হতে পারত। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আশা করি, অচিরেই এর বাস্তবায়ন হবে এবং অর্থনীতির অগ্রযাত্রার গতি আরো বেগবান হবে— এটাই জাতির প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ