সড়ক দুর্ঘটনার দায় নেবে কে

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৯, ১৩:০৭

সম্পাদকীয়

না, এ দায় নেওয়ার মতো কেউ নেই। যেখানে জবাবদিহি থাকে না, সেখানে ‘দায়’ শব্দটিও মৃত। জবাবদিহি নেই বলেই সড়ক দুর্ঘটনা আজ নিজেই তার কক্ষ পরিত্যাগ করে হত্যাকাণ্ডের কক্ষপথে চলতে শুরু করে সিরিয়াল কিলারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কেন?

প্রতিদিনই সড়ক-মহাসড়কে বাস অথবা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে জীবন দিতে হচ্ছে ১০ থেকে ১২ জন নিরীহ সাধারণ মানুষকে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সড়কে আবরারের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই ঝরে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো এক ছাত্রের তরতাজা প্রাণ। প্রথমে ভাড়া নিয়ে তর্কবিতর্ক। অতঃপর ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেওয়া। পরিশেষে যাত্রীর ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে হত্যা করা। যাত্রী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকালটির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। নাম ঘোরি মো. ওয়াসিম।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে। ঘটনার সময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী বাসে ওয়াসিমের সহযাত্রী ছিলেন। চোখের সামনে সহপাঠীর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তারা। শিক্ষার্থীরা এটিকে দুর্ঘটনা বলতে নারাজ। তারা বলছেন এটি হত্যাকাণ্ড। 

একই কথা বলেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। শুধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই নন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ আজ বিশ্বাস করেন সড়কে দুর্ঘটনার নামে যা হচ্ছে, তা দুর্ঘটনা নয়। যানবাহনের চালক এবং সহকারীর স্বেচ্ছাচারিতার ফল। যাকে হত্যাকাণ্ড বললে বেশি বলা হবে না।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজধানীতে বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া বাস। এআরআই বলছে, ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬৬টি দুর্ঘটনায় মারা যায় ৬৯৯ জন। এর মধ্যে ৩৫৪ দুর্ঘটনাই বাসের কারণে ঘটেছে। ২০১৭ সালে ঢাকায় ২৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যায় ২৭৬ জন। এ সময় ১৪৫ দুর্ঘটনায় বাসের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। আর ২০১৮ সালে ঢাকায় ২৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২৮৬ জন। এ বছর ১৩৪টি দুর্ঘটনার কারণ বাস।

মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য মতে, দেশের ৫০ শতাংশ বাসচালকের কোনো লাইসেন্স নেই। এরপরও যোগ হতে পারে অবৈধ লাইসেন্স। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিএর রেজিস্ট্রার্ড গাড়ির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার। ২০১৭ সালে এসে তা দাঁড়ায় ৩৩ লাখে। এর মধ্যে পেশাদার চালকের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ।

লাইসেন্সপ্রাপ্তির গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা। এর লাগাম টেনে ধরার সময় সম্ভবত শেষ সীমায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা মনে করি, এর জন্য প্রয়োজন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের। সে সিদ্ধান্তই দিতে পারে এর সমাধান। আমরা সেই কঠিন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম।

পিডিএসও/তাজ