প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৯, ১৩:৪৮

সম্পাদকীয়

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরানো নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলছে টানাপড়েন। বাস্তবতা বলছে, টানাপড়েন এখনো শেষ হয়নি। কারখানা ও গুদাম সরানোর বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে কিছু মানুষ; যারা এই অনৈতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখানে যারা বাণিজ্য করছেন তাদের বেশির ভাগ লোকের বাণিজ্য করার প্রশ্নে যে বৈধ কাগজপত্রের প্রয়োজন, তা তাদের নেই।

তারপরও তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছেন। এরজন্য কেবলমাত্র তাদের মানসিকতাকেই দায়ী করলে অন্যায় করা হবে। আঙুল তুলতে হবে সেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তার দিকেও। যারা এই অবৈধ বাণিজ্যকে নানাভাবে সহযোগিতা করে শত শত মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

নিমতলীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর চুড়িহাট্টায় একই ঘটনা ঘটার পর স্বয়ং সরকার যেন একটু নড়েচড়ে বসেছে। তারা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার দিকে নজর রাখছেন এবং কারখানা ও গুদাম উচ্ছেদের প্রশ্নে জোরালো ভূমিকায় মাঠে অবতীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু অমানবিক চরিত্রের ধারক-বাহক হিসেবে চিহ্নিত ব্যবসায়ীর একটি অংশ সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। প্রশ্ন উত্থাপিত হতেই পারে, এরা বিরুদ্ধাচরণ করার সাহস অথবা শক্তি কোথা থেকে পায়! এ ক্ষেত্রে বলা যায়, পুরান ঢাকার এই ব্যবসায়ীদের বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। এ দেশে এমনিতেই কালো টাকার আধিপত্যের কাছে সাদা টাকা অনেকটাই দুর্বল।

আর পুরান ঢাকায় এই কেমিক্যাল ব্যবসা প্রথমত অনৈতিক এবং দ্বিতীয়ত অবৈধ। ফলে এরা অর্থবলে সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এ যাবত যে তারা তাদের এই অনৈতিক কাজে সফল, তা নিশ্চিত করে বলা যায়। তবে শেষ বাস্তবতা বলছে, অবস্থা আর আগের মতো নেই। পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুরান ঢাকায় আর কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থের কারখানা ও গুদাম রাখা যাবে না। সব রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরাতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না। চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আর নয়, এভাবে আর সাধারণ মানুষকে মরতে দেওয়া হবে না। আমরা আলাদা জায়গা খুঁজছি। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা আমরা নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু যেখানে বসতি, সেখানে এ ধরনের ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, একবার নিমতলীতে হয়ে গেল, তারপর চুড়িহাট্টায়। কত মানুষের জীবন গেল। কাজেই এখানে থামতে হবে। আমরা থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। যত বাধাই আসুক, কোনো বাধাকেই আর মানব না। প্রধানমন্ত্রীর উচ্চারিত এ শব্দাবলির সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, ‘শেখ হাসিনা এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে’। তোমাকে অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ।

পিডিএসও/তাজ