স্বাগত নিষিদ্ধ কোচিং বাণিজ্য

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৬

সম্পাদকীয়
ama ami

শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবি অনেক দিনের, অনেক মানুষের। বর্তমান ব্যবস্থায় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্য রয়েছে অফুরান সুযোগ। মধ্যবিত্তের ঘরে শোনা যাচ্ছে নাভিশ্বাস। আর নিম্নবিত্তের ঘরে হাহাকার। তার পরও বলতে হয়, চলমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে না পারলেও ভাঙচুর করে কিছুটা হলেও সামনের দিকে, ইতিবাচকের পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এ সক্ষমতা আরো একধাপ এগিয়ে যেতে সাহায্য করল হাইকোর্টের একটি রায়। হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছেন, কোচিং বাণিজ্যে জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই শিক্ষকদের।

সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের জারি করা নীতিমালাকে বৈধ ঘোষণা করে এ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, সরকার রাষ্ট্রের কল্যাণে যেকোনো সময় যেকোনো ইস্যুতে আইন, বিধি ও নীতিমালা জারি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গভর্মেন্ট সার্ভেন্ট (কনডাক্ট) রুলস এবং গভর্মেন্ট সার্ভেন্টস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস পর্যালোচনা করে আদালতের রায় যৌক্তিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারি চাকরির বাইরে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যবসা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের নীতিমালাকে বৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোচিং বাণিজ্য এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যেখানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন, যা পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং এ ব্যয় নির্বাহে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে কোচিংয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন। ফলে দরিদ্র এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সরকার তার নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং সেই নীতিমালার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল হলে হাইকোর্ট তার রায় ঘোষণা করেস। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারের বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। আর সমাপনী পরীক্ষার জন্য ৮৬ শতাংশ বিদ্যালয়ে চালু রয়েছে কোচিং বাণিজ্য।

আমরা মনে করি, সরকারের এ উদ্যোগ চলমান শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংস্কার। যে সংস্কার কার্যকর করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি পুরো সমাজব্যবস্থাও উপকৃত হবে। উপকৃত হবে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা। সর্বোপরি উপকৃত হবে দেশ ও জাতি। তাই, আমরা আশা করতেই পারি—হাইকোর্টের নির্দেশনা সামনে রেখে সরকার বিশেষ বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের বিষয়টিকে কার্যকর করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেবে। নীতিমালা ঘোষণার পর হাইকোর্টের রায় পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ছয়-ছয়টি বছর। বিষয়টি আপিলেট ডিভিশনে যেতে পারে। আমরা সেখানেও সময়ক্ষেপণের শঙ্কায় রয়েছি। এ শঙ্কা থেকে সরকার নিশ্চয়ই আমাদের রক্ষা করবে—এটুকুই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল