বিদায় ২০১৮

বছরজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেষ হচ্ছে ২০১৮ সাল। দেশের মানুষের জন্য এ বছরটির শেষ দিন একটি বড় চমকই হিসেবেই দেখা দিয়েছে। বিজয়ের এ মাসে অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে বর্তমান সরকার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বছরটির সারা মাসজুড়েই ছিল নির্বাচনী উত্তাপ। সরকার ও বিরোধীদের মাঝে কথার লড়াই যেমন ছিল আবার রাজনৈতিক উত্তাপও ছিল বেশ লক্ষণীয়। এ ছাড়া বিরোধী দলগুলোর পক্ষ রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপে ফেলার কৌশলে যেমন সফল হয়েছিল। আবার বিপরীত দিকে সরকারি দল ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাবও দিতে পেরেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ বলছে, বছরের শেষ দিনে এসে প্রশাসনসহ সরকারি দল দেশকে একটি গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিল।

বছরের শুরুতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জেল এবং সাজাসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়।

তবে বিএনপি জোট এই প্রথমবারের মতো দেশের রাজনীতিতে সর্বাধিকসংখ্যক আওয়ামী ঘরানার নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে বৃহৎ একটি রাজনৈতিক জোট গড়ে নির্বাচনে আসে দলটি। যা সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই জোটকে সমঝোতার ভিত্তিতে সর্বাধিকসংখ্যক আসনে ছাড় দিয়ে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে আসে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে জোটগতভাবে অধিকসংখ্যক দল নিয়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতে সক্ষমও হয় বিএনপি।

বিএনপি ২০১৪ সালের মতো ভোট বর্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে এবার মরণ কামড় দিয়েই মাঠে ছিল নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত। অন্যদিকে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকায় অলিখিতভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা হয়ে উঠেন প্রগতিশীল সুশীল সমাজের অধিপতিখ্যাত ড. কামাল হোসেন। বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের মাধ্যমে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রতি শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়তে সক্ষম হয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের এ প্রধান নেতা।

রাজনীতির বাইরে সারা দেশ বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডসহ মাদকবিরোধী অভিযান ছিল বেশ আলোচিত বিষয়। এর বাইরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ বছর বাংলাদেশ ছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির আকর্ষণের কেন্দ্রে। জাতীয় আন্তর্জাতিক একাধিক সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান ছিল বেশ প্রশংসনীয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিতে সাড়া ফেলেছিল।

এর বাইরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বছরটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। গত এক বছরে কোথাও অস্থিরতা কমেছে, কোথাও বেড়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথ পরিহার করে কেউ কেউ হাঁটছে শান্তির পথে। সবমিলিয়ে নানা কারণে ব্যাপক আলোচিত ছিল বছরটি।

২০১৮ সালে কোরিয়া উপদ্বীপে কমেছে অস্থিরতা। সিরিয়ায় শেষের পথে গৃহযুদ্ধ। তবু শান্ত হয়নি বিশ্ব। ইউক্রেন রয়েছে মারাত্মক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে। বেড়েছে পরাশক্তিদের মুখোমুখি অবস্থান। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সঙ্গে রাশিয়ার টানাপড়েন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান এবং নতুন করে ইউক্রেন ঘিরে উত্তেজনা, সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে একেক দেশের একেক অবস্থান এবং এ ঘটনাকে বছরের শেষের দিকে রিয়াদ-আঙ্কারার মধ্যে চলছে ঠোকাঠুকি। এতসব ঘটনার মধ্যেই বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হচ্ছে আরো একটি নতুন বছর।

পিডিএসও/হেলাল