নির্বাচন এবং প্রত্যাশা

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:১৩

সম্পাদকীয়

কাল ৩০ ডিসেম্বর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ১ কোটি ২২ লাখ অর্থাৎ নির্বাচনে নতুন ভোটার হিসেবে তারা যুক্ত হয়েছেন। বয়সে তারা তরতাজা তরুণ। এ ছাড়া ২৮ বছরের নিচে রয়েছেন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ভোটার। সুতরাং এক বাক্যে বলে দেওয়া যায়, নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য তাদের ভূমিকাই মুখ্য।

বিশ্লেষকদের ভাবনাও অনেকটা এ রকম। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে যে হানাহানি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছিল একটি মহল, তাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হতে পারেনি। ফলে ভোট পড়েছিল গড় হিসাবের অনেক নিচে। কিন্তু এবার! এবার তো পরিবেশ গতবারের তুলনায় অনেক ইতিবাচক। সব দলই নির্বাচনে আছে। প্রচার-প্রচারণায় আছে। একই সঙ্গে আছে সরকার ও বিরোধী দলের অভিযোগ।

এখানে একটু বলে নেওয়াই ভালো, নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠে চতুর্মুখী অভিযোগ থাকে। অভিযোগবিহীন নির্বাচন কখনো কোথাও হয়েছে, এমনটা খুবই কম। আমরা মনে করি, অভিযোগ যতই থাকুক না কেন, নির্বাচন কমিশন সততার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করলে এবারের নির্বাচন হবে একটি মাইলফলক। দেশবাসী তার কাছে এটুকু আশা করতেই পারে।

নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে। সব দলই তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। প্রতিশ্রুতির ভান্ডার বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে কেউ কম করেনি। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপারে কে কতটা পারদর্শীর পরিচয় দিয়েছে, এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে এ কথা সত্য, তুলনামূলক বিচারে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে বেশি। এ ক্ষেত্রে অন্য দলগুলো অনেক পিছিয়ে। সুতরাং; তরুণরা যে তার পক্ষে সমর্থন জানাবে, এ বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

তবে কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিল এই তরুণ সম্প্রদায়। এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাদের ভাবনা, এখন কোন দিকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। মোটা দাগে বলা যায়, বিষয়টি নির্বাচনের মাঠে যারা সক্রিয় আছেন, তাদের ভাবনায়ও লিপিবদ্ধ আছে। আছে বলেই সবার লক্ষ্য এখন এই তরুণ ভোটারদের দিকে। তারা ভালো করেই জানেন, তরুণদের নৌকা যে ঘাটে ভিড়বে, জয় তাদের দিকে নিশ্চয়তার পাল ওড়াবে।

নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এক ঐতিহাসিক ক্ষণের অপেক্ষায় দেশ। অপেক্ষা নতুন দিন, নতুন নেতৃত্বের। গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনই একমাত্র পথ। দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ নিজ আকাঙ্খার মালা গেঁথে স্বপ্নে বিভোর। আমরা এই স্বপ্নকে ভেঙেচুরে চুরমার করে দেওয়ার পক্ষে নই। আর সে কারণেই বিবাদ ও সংঘাতমুক্ত একটি নির্বাচন হবে- এটা কেবল আমাদের প্রত্যাশা নয়। পুরো জাতিও সে প্রত্যাশাই করে। 

পিডিএসও/তাজ