গেটলকের নামে প্রতারণা

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:৫০

সম্পাদকীয়

আমরা তো নই কোনো নেই রাজ্যের বাসিন্দা। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক। যে রাষ্ট্র অর্জনের পেছনে ৩০ লাখ মানুষের জীবন উৎসর্গ করার মতো ইতিহাস রয়েছে। ইতিহাস রয়েছে লালন, হাসন আর কানাই শীলের মতো মনীষীদের সংস্কৃতি। বারো আউলিয়াদের মানবতায় বেড়ে ওঠা একটি বৃহত্তর এবং সমৃদ্ধ জনপদ। সেই জনপদে আজ এত নৈরাজ্য কেন!

আমাদের চারপাশে নৈরাজ্য নামের অক্টোপাস যেন ওঁৎপেতে বসে আছে তার দৈনন্দিন শিকার নিশ্চিত করতে। আমরা তো এমন পরিবেশ চাইনি। এমন পরিবেশ পাওয়ার জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিনি। জীবন উৎসর্গ করিনি।

নৈরাজ্য নেই কোথায়? রাস্তায় নৈরাজ্য। ফুটপাতে নৈরাজ্য। পথে নৈরাজ্য। খাবারে ভেজাল নৈরাজ্য। থানায় নৈরাজ্য। চিন্তায় নৈরাজ্য। নৈরাজ্য চেতনায়। নৈরাজ্য নেই কোথায়! এ রকম একটি নৈরাজ্য চলছে গণপরিবহনে। থামছে না বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ানো এক নিয়মে পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়িয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ করা হচ্ছে।

সিটিং সার্ভিস, গেটলক, সময় নিয়ন্ত্রণ, স্পেশাল সার্ভিসসহ নানা নামে ইচ্ছেমতো আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এ ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না বিআরটিএর বেঁধে দেওয়া ভাড়ার তালিকা। ভুক্তভোগীদের অভিমত, সব অনিয়মই যেন গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের বদান্যতায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কেন?

এ প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। জবাবদিহি না থাকলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এ যাবৎ শতচেষ্টা করেও গণপরিবহনকে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি। তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তারা কোনো সরকারের অধীনস্ত নয়। নিজেদের মতো করে নিজেরাই যেন তাদের সাম্রাজ্য গড়ে নিয়েছে। তাদের ভূমিকার সামনে সরকারকে মাঝে মাঝে অসহায় মনে হয়।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, তাদের পেছনে সরকারের প্রভাবশালী কিছু মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্টতা থাকার কারণেই তারা আজ ফ্রাঙ্কেস্টাইনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেরাই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করার সাহস পেয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন গণমানুষের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অথবা বলা যায়, সরকার যদি এই অসহনীয় নৈরাজ্য থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে চায়; তাহলে সর্বাগ্রে সততার সঙ্গে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। যে সিদ্ধান্তটিকে হতে হবে রাজনৈতিক এবং মূল প্রতিপাদ্য হবে, ‘গণপরিবহনকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে’। এর বাইরে অন্য কোনো কিছুতেই কোনো সমাধান আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আমরা একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তসহ সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে পারি। আশা করি, আমাদের এই আহ্বানে সরকারকে ইতিবাচক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখব- এটাই ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ