সেশনজটের কবলে ভাষাবিজ্ঞান

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:১২

সম্পাদকীয়
ama ami

নানাবিধ জটের কবলে পড়ে মানুষ দিশাহারা। বিশেষ করে রাজধানীর যানজট প্রতিনিয়তই মানুষকে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া রয়েছে ভূমি দখল, নদী দখল, ব্যাংক লুটসহ খাদ্যপণ্যে ভেজালজনিতজট। তবে বহুদিন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সেশনজটমুক্ত থাকার পর আবার নতুন করে জটাক্রান্ত হওয়ার সংবাদ এসেছে গণমাধ্যমে।

ভয়াবহ সেশনজটের কবলে পড়েছে চবির ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ। ছয় বছর পার হয়ে গেলেও স্নাতক শেষ করতে পারেননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা।

২০০৮ সালে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের অধীনে বিভিন্ন ভাষার ওপর ডিপ্লোমা কোর্সের মাধ্যমে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু। পরে এ ইনস্টিটিউটের অধীনে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। অনার্স কোর্সে মোট ছয়টি ব্যাচে বর্তমানে ২১৮ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

এ ছাড়া আটটি ভাষা কোর্সের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। বিশালসংখ্যক এসব শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ১৩ শিক্ষক থাকলেও তাদের মধ্যে দুজন আছেন ছুটিতে। এ ছাড়া রয়েছে আরো সমস্যা। যার মধ্যে শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণে অনীহা, নিয়মিত বিভাগীয় প্রধান না থাকা, শ্রেণিকক্ষ সংকট ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতায় লাগামছাড়া হচ্ছে ইনস্টিটিউটের সেশনজট।

অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত চার বছরের স্নাতক চার বছরের কোর্স পাঁচ-ছয় বছরেও শেষ হচ্ছে না। বিভাগটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অবস্থা ভয়াবহ। স্নাতক সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয়েছে এ বছরের জুলাইয়ে, যা ২০১৬ সালে হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ ব্যাচটি ২৪ মাসের জটে আটকে আছে। দ্বিতীয় ব্যাচটি আটকে আছে ১৮ মাস। তৃতীয় ব্যাজটি ভুগছে ১৩ মাসের সেশনজটে আর শেষ অর্থাৎ চতুর্থ ব্যাচটিও পড়েছে ১৩ মাসের জটে। ব্যাচভেদে তারতম্য থাকলেও গড়ে সেশনজট বছর ছাড়িয়ে গেছে। এ জট থেকে রেহাই পায়নি নতুনরাও। এ ছাড়া দ্বিতীয় বর্ষে একই সঙ্গে আটকে আছে তিন-তিনটি ব্যাচ।

আমরা মনে করি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনা এটাই বোধহয় শেষ সময়। যেকোনো মুহূর্তে বিষয়টি সংক্রমিত হতে পারে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট নামের এই ক্ষয়রোগ থেকে মুক্ত ছিলাম। নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হতে চাই না। আর চাই না বলেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা ব্যবস্থা নিন। তড়িৎ এ রোগের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করুন। দেশ ও জাতিকে শঙ্কামুক্ত করুন।

আমরা এমনিতেই অনেক জটিল জটের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। জট আর বাড়াতে চাই না। আশা করি, কর্তৃপক্ষের সঠিক পদক্ষেপই জটমুক্ত করবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগকে।

পিডিএসও/তাজ