বন্ধুর ভূমিকায় পুলিশ

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৩৬

সম্পাদকীয়

অনেক দিন পরে হলেও পুলিশের ভূমিকায় একসঙ্গে প্রশংসায় নেমেছে দেশের বেশির ভাগ মানুষ। বিশেষত যারা বিদেশে চাকরি অথবা পড়াশোনার জন্য যাচ্ছেন, ওরা বলছেন—এই কাজের মধ্য দিয়ে পুলিশ প্রমাণ করল তারা গণমানুষের বন্ধু হওয়ার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এ যাবৎ বিদেশগামীদের জন্য পুলিশের ছাড়পত্র ছিল সোনার হরিণের মতো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এই সোনার হরিণকে পাওয়া যেত। এখন আর তেমন পরিশ্রমে যেতে হয় না। সব ধরনের ব্যারিকেড সরে গিয়ে এখন তা সমান্তরাল হয়েছে। এটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এ কাজের মধ্য দিয়ে তারা একটি আশ্চর্যজনক এবং অনুকরণীয় উপমা তৈরি করেছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও তদন্ত নিয়ে এতকাল যে অপবাদ ছিল, তার অবসান ঘটেছে। পুলিশের ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিস আমাদের সে পথ দেখাল।

২০০৭ সালে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার নাইম আহমেদ প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিস চালু করেন। বর্তমান কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া সেটি সাফল্যের সঙ্গে কম্পিউটারাইজ করেন। এখন ঘরে বসেই দেশের সব নাগরিক থানা-পুলিশের সাহায্যনির্ভর ক্লিয়ারেন্স আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করতে পারছেন। পুলিশের সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ যোগাযোগের প্রয়োজন নেই। তদবিরের প্রয়োজন পড়ে না। এই পদ্ধতিতে গত দুই বছরে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। আর রাজস্ব খাতে আয় হয়েছে ৯ কোটি টাকারও বেশি। পুলিশের এহেন সাফল্য তাদের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

আমরা বিশ্বাস করি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পুলিশ হবে সাধারণ মানুষের প্রকৃত বন্ধু। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা বহুকাল ধরে উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমাদের বিশ্বাস, এভাবে যেকোনো কল্যাণমুখী কাজ করার ক্ষমতা এবং যোগ্যতা পুলিশের আছে। অন্য কারো জন্য সে সুযোগ নেই। শুধু ইচ্ছার অভাবে তা কার্যকর হয় না। যেকোনো সদিচ্ছাই পুলিশকে মহৎ থেকে মহত্ত্বরে পৌঁছে দিতে পারে।

পাসপোর্ট করতে গিয়ে প্রার্থীদের এত দিন পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে যে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, তা কেবল বিগত দিনের ইতিহাস। এই পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই ছিলেন বিদেশগামী প্রবাসী শ্রমিক। সে সময় পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে ভেরিফিকেশনের নামে তারা অনেক ক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে দিন পাল্টে গেছে। আজ আর সেই হয়রানি হতে হয় না।

আমরা মনে করি, কেবল ভেরিফিকেশনই নয়, সেবার সব স্তরে এ উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। আর এ কাজে সফল হলে বাংলাদেশ একদিন স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা আমাদের বিশ্বাসকে ধরে রাখতে চাই। এ প্রশ্নে পুলিশ বন্ধুর মতো সব ক্ষেত্রে তাদের সেবার মানকে উন্নত করে আরো নতুন নতুন উপমা সৃষ্টি করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল