জাহাজশিল্প

সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৫১

সম্পাদকীয়

জাহাজশিল্প বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি অন্যতম খাত। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, দ্রুত বিকাশমান এ খাতের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রাখতে পারে এ শিল্প। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জাহাজশিল্প দেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোরও দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে কার্যাদেশের হিড়িক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ খাত থেকে বছরে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করা সম্ভব। তবে সম্ভাবনাময় এ খাতকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পারে জাহাজশিল্প রমরমা আকার ধারণ করেছে। বরিশালসহ সংলগ্ন জেলাগুলোয়ও সমুদ্রগামী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান তৈরির শিল্প বিকশিত হয়ে উঠেছে। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘সম্ভাবনাময় জাহাজশিল্প : সৃষ্টি হচ্ছে হাজারো কর্মসংস্থান’ শীর্ষক নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জাহাজ তৈরির অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যেই স্থানীয় কায়েতপাড়ার পূর্বগ্রাম, বড়াল, মাঝিনা, ভাওয়ালীয়াপাড়া, ডাক্তারখালী, হড়িনা ও ইছাখালীর চরে রয়েছে অর্ধশতাধিক জাহাজ তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় আড়াই শ ফিট থেকে শুরু করে শত ফিটের কোস্টার বা মালবাহী জাহাজ, সরোঙ্গা, ফেরি, জেটি, পন্টুন, বালুবাহী ট্রলার, বলগেট আর ডেজার তৈরি হয় শীতলক্ষ্যার এ চরে। দিনভর টানা খটখাট আর টুংটাং শব্দ শোনা যায় এলাকাজুড়ে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের জাহাজ এখন জার্মানি, নেদারল্যান্ডসসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয়ও রফতানি হচ্ছে। এ দেশে তৈরি জাহাজ আন্তর্জাতিক মান স্পর্শ করতেও সক্ষম হয়েছে। সস্তা জনশক্তির জন্য বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশে জাহাজ তৈরির খরচ কম। বাংলাদেশি কারিগরদের দক্ষতাও ক্রেতাদের সন্তুষ্টি জুগিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাহাজ নির্মাণের যে কার্যাদেশ আসছে তা গ্রহণের মতো নির্মাণ অবকাঠামো বাংলাদেশের নেই। এ কার্যাদেশগুলো সব গ্রহণ করা সম্ভব হলে এটি দেশের শীর্ষ রফতানি খাতের একটি বলে বিবেচিত হবে, বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করছেন। কারণ, বাংলাদেশে এখন যাত্রী ভ্যাসেল, এমপিসি ভ্যাসেল, পাইলট ভ্যাসেল, ফেরি ট্যাংকার, পন্টুন কার্গো ইত্যাদি নৌযান নির্মিত হচ্ছে। তবে জাহাজ নির্মাণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে দেশে জাহাজ নির্মাণের অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতা করার মতো অবন্থা এখনো তৈরি হয়নি।

অবকাঠামোগত সুবিধাসহ নতুন নতুন শিপইয়ার্ড গড়ে উঠলে আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জাহাজ রফতানি করা সম্ভব হবে। বিশ্বে জাহাজের যে চাহিদা রয়েছে, তার একটি ক্ষুদ্র অংশ পূরণ করা গেলেও এ খাত থেকে ওই পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে অবকাঠামোর উন্নতিসহ সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের জাহাজশিল্প এগিয়ে যেতে পারে।

পিডিএসও/হেলাল