মুশফিককে অভিনন্দন

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৭

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিক এমন একটি নাম, যাকে সমীহ করতেই হয়। মুশফিক তোমাকে সালাম। সালাম তোমার দেশপ্রেমে গড়া অনবদ্য একটি ইনিংসের জন্য। যে ইনিংসে তুমি প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করে দেশ ও জাতিকে একটি বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে দাঁড় করালে।

গত মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মুশফিকের ব্যাট যে নান্দনিকতায় হেসেছিল, সেই হাসিতে ছিল মেঘমুক্ত আকাশে দেদীপ্যমান সূর্য সকালের মতো। সেঞ্চুরিকে এর আগেও মুশফিক ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছে। গলে পাঁচ বছর আগের সেই কীর্তি ছাপিয়ে গত মঙ্গলবার মিরপুর স্টেডিয়ামে মুশফিক যা করল, তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের এক মহাকাব্য বললে বেশি বলা হবে না। বিশেষ করে দেশটা যখন বাংলাদেশ।

অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস গড়তে তাকে খেলতে হয়েছে ৪২১ বল। চার মেরেছেন ১৮টি, সঙ্গে একটি ছয়। স্টেডিয়ামে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা দেখেছিলেন বাংলাদেশের লিটল মাস্টারের হাতের কারুকাজে তৈরি এক কালার কম্বিনেশনে গড়া বাংলাদেশের মানচিত্র। এমন মানচিত্র গড়তে হলে সবার আগে যে বিষয়টির প্রয়োজন, তা প্রতিফলিত হতে দেখেছি মুশফিকের চোখে, মুখে এবং শারীরিক অভিব্যক্তিতে। সম্ভবত বিষয়টি দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেম; যা মুশফিকের প্রতিটি খেলার মূলমন্ত্র হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রমাণ হয়েছে।

সিকান্দার রাজার শর্ট বলটা স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়েই একটি রান। স্কোর বোর্ডে তার নামের পাশে থাকা ১৯৯ চোখের পলকের সঙ্গে সরে গিয়ে বসল ২০০। মিরপুরের আকাশে তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসা শেষ বিকেলের আভা। গোধূলি রঙের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার বাংলাদেশ। একাকার শেরেবাংলা ক্রিকেট উদ্যান।

গ্যালারির রো রো শব্দে যেন তৈরি হলো প্রেমসংগীত। যে সংগীত আমরা একবার শুনেছি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। আমি দেশপ্রেমের নির্যাসে গড়া সংগীতের কথা বলছি। মুশফিক তোমাকে সালাম। তোমার ভেতরে সেই প্রেমের ঝঙ্কার আমরা খুঁজে পেয়েছি।

আমরা মনে করি, এই দেশপ্রেম যদি দলের প্রত্যেক সদস্যের মাঝে প্রস্ফুটিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ আগামী ক্রিকেট বিশ্বকাপেই শুধু নয়, আগামীর যেকোনো সময়ের জন্য বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক দলে পরিণত হতে পারে— এটা আমাদের বিশ্বাস। আমাদের এই বিশ্বাসকে ধারণ করে দলের প্রত্যেক সদস্য মুশফিককে অনুসরণ করুক— এটাই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ