মানুষের কাছে বৃক্ষের প্রার্থনা

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:৩০

সম্পাদকীয়

যদি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, পৃথিবীকে ভোগ করছে কে? সবাই হয়তো একসঙ্গে, একবাক্যে সমবেত কণ্ঠে বলবেন ‘মানুষ’। ভোগের প্রশ্নে মানুষই এখানে একচ্ছত্র অধিপতি। যদি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে কে? এ প্রশ্নের জবাবে সেই একই উত্তর, ‘মানুষ’। আবার যদি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, পৃথিবীতে মানুষের শত্রু এবং এই মানবসম্প্রদায়কে ধ্বংস করতে পারে কে? এখানেও সেই মানুষের কথাটিই উচ্চারিত হবে।

প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি আজকের সভ্যতা। একই সঙ্গে সেই সভ্যতা আমাদের শিখিয়েছে পৃথিবী ধ্বংস করার প্রক্রিয়া। পাশাপাশি আমরা আমাদের অস্তিত্ব¡ বিপন্ন করাই শুধু নয়, অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার পথেও অনেকটা এগিয়েছি। যে দেশ বা জাতি প্রযুক্তিগত দিকে যত বেশি সফলতা দেখিয়েছে, পৃথিবী এবং মানব অস্তিত্ব নির্মূলে তাদের অবদান ততটাই বেশি।

পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। আর এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষজ্ঞরা শঙ্কিত হয়ে বলছেন, পৃথিবীর মানচিত্রে পরিবর্তন আসছে। জলধীর উচ্চতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। একদিকে প্লাবন আর পাশাপাশি নেমে আসবে প্রচণ্ড এক খরা। বিপর্যস্ত হবে পুরো বিশ্ব এবং মানবসভ্যতা। কার্বনস্তর বেড়ে গিয়ে পরিবেশ হয়ে উঠবে বসবাসের অনুপযোগী। রোগের ভয়াবহতায় বিকলাঙ্গ হয়ে পড়বে পৃথিবী এবং চলমান সময়ের সুসভ্য(!) মানুষ। যার নমুনা কমবেশি আমরা অবলোকন করছি। কিন্তু প্রতিকার বা প্রতিরোধে তেমন একটা এগিয়ে আসতে পারিনি বা আসতে ব্যর্থ হয়েছি।

প্রাণিজগতের বেঁচে থাকার জন্য বৃক্ষের ভূমিকার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। একইসঙ্গে বৃক্ষনিধনের কথাও আমাদের অজানা নয়। বাংলাদেশে এবার একসঙ্গে সাত হাজার বৃক্ষকে হত্যা করা হচ্ছে। ভাওয়ালগড়ের সাত হাজার বৃক্ষ চিৎকার করে বলছে—হে সুসভ্য মানুষ, ‘তোমাদের এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করো’। ওরা তো বৃক্ষ, তাই বাঁচার আকুতির প্রতি কারো মনোযোগ দেওয়ার সময় নেই। তবু পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কিছুটা হলেও বিষয়টি আমলে নিয়েছে।

তারা বলেছে, ‘আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরকে জানিয়েছি। তাদের বলেছি, সড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।’ তারা আরো বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। তাদের মতে, সড়কটি প্রশস্ত করা তেমন জরুরি নয় এবং ওই সড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াতও তেমন বেশি নয়।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, তবে কেন এই বৃক্ষহত্যা মহাযজ্ঞ! দু-চার-দশটি বৃক্ষ নয়। একসঙ্গে সাত হাজার বৃক্ষ নিধন। যে মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের প্রতি বিশেষ মনোযোগের কথা বলেছেন, ঠিক সে মুহূর্তে এভাবে বৃক্ষ নিধনের মহাযজ্ঞের আয়োজন কার মঙ্গলার্থে ঘটতে চলেছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এ মুহূর্তে এই নিধনযজ্ঞ বন্ধের দাবি উত্থাপন করছি। আশা করি, বিষয়টি কার্যকর করার আগে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর আবার ভাবনাচিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

পিডিএসও/তাজ