ভালো ও মন্দে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:২৭

সম্পাদকীয়
ama ami
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। আবার ঢাকার পাইপলাইনে যে পানি সরবরাহ করা হয় তার ৮০ ভাগেই ক্ষতিকর জীবাণু ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত। এটি একটি মন্দ খবর। এই পানির মান পুকুরের পানির মতো উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সব মিলিয়ে দেশের ৪১ শতাংশ ট্যাপের পানিতে ক্ষতিকর এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তারা আরো জানিয়েছে, ডায়রিয়ার জন্য প্রধানত দায়ী এই ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া।

পাশাপাশি অপর তথ্যে বলা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত অর্থনীতিসহ অন্য অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান মান বিবেচনায় বাংলাদেশের শিশুরা ভারত এবং পাকিস্তানের শিশুদের চেয়ে অধিক উৎপাদনশীল হবে। সূচক অনুযায়ী, ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে ১১৫ ও ১৩৪তম।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশের একজন শিশু বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা পেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গড়ে ওঠে, যেখানে ৪৮ শতাংশ উৎপাদনশীলতা দেখাতে সক্ষম সেখানে ভারত ও পাকিস্তানের শিশুরা ৪৪ ও ৩৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা দেখাতে সক্ষম। এখানে না বললেই নয় যে, এক দশক ধরে সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে যে প্রাধান্য দিয়েছে এটা তারই প্রতিফলন।

এদিকে অপর তথ্যে বলা হয়, এ দেশের ১৩ ভাগ পানির উৎসে আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও বাংলাদেশের পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার সমস্যা দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এক কথায় দেশের এক-তৃতীয়াংশ পরিবার পানি দূষণের ঝুঁকিতে। তবে এ কথাও সত্য যে, বাংলাদেশ বেশ সফলতার সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ বন্ধ করেছে। ভালো-মন্দের সন্ধিক্ষণে অবস্থান করেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অনেক দেশের জন্য ঈর্ষণীয়।

বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশ ভালো করছে। তবে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, খর্বাকৃতি ও মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাবই বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। তাদের মতে, কোনো দেশের শিশুরা যদি ভবিষ্যতে অর্ধেক উৎপাদনশীলতা দেখায়; তাহলে ওই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অর্ধেকই হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা মনে করি, এ সম্ভাবনার কথা মনে রেখেই সতর্কতার সঙ্গে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে অব্যাহত রাখব। ভালো-মন্দের সন্ধিক্ষণে থেকেই আমরা তা করব—এটাই আমাদের বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও লক্ষ্য।

পিডিএসও/হেলাল