ইলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৩৩ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৫৮

সম্পাদকীয়

সাত থেকে ২৮ অক্টোবর। উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী থেকে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, বহন, মজুদ ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা দেশের সব মানুষের জন্য যে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে, এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তবে জেলেদের জীবনের নিরাপত্তাকে পূর্ণতা দিতে পারেনি।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় ডিমসহ মা ইলিশরা সাগর থেকে নদ-নদীতে এসে ডিম ছাড়ে। ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার এই সীমিত সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞার সুফলও আমরা পেয়েছি। কিন্তু যারা মাছ আহরণের সঙ্গে যুক্ত তারা! এ সময় তাদের জন্য অন্য কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় নিরম্বু উপবাসে কাটাতে হয় এই পেশায় জড়িত জেলেদের।

ষোলো কোটি মানুষের মাঝে জেলেদের এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। সরকার এই নগণ্য জনগোষ্ঠীর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বরাদ্দ আটকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দ পেতে জেলেদের সংশ্লিষ্ট ইউএনওর সুপারিশক্রমে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছ থেকে এ সম্পর্কিত কার্ড সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু নানা অনিয়মের কারণে এ কার্ড সব বৈধ জেলেদের হাতে পৌঁছায়নি। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জেলে বাদ পড়েছেন।

এ ছাড়া আরো অভিযোগ রয়েছে, সরকার চাল বরাদ্দ দিলেও এ চাল জনপ্রতিনিধিরা যথাসময়ে জেলেদের মাঝে বিতরণ করেননি। কিছু কিছু এলাকায় এমনও হয়েছে যে, কেবল নিবন্ধিতরাই বরাদ্দ পেয়েছেন। নিবন্ধনের বাইরে যাদের বসবাস, তারা অমাবস্যার কালোরাতে আটকে থেকে দুর্বিসহ জীবনযাপন করেছেন। ফলে বঞ্চিতরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাল নিয়ে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

প্রশ্ন ১. কেন বরাদ্দের চাল যথাযথ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না? ২. নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে দায়ী কারা? ৩. এদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় না এনে হতদরিদ্র জেলেদের গ্রেফতার করে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে কেন?

আমরা মনে করি, সরকারে এই মহতি উদ্যোগের সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্ত জাতীয় অর্থনীতির সহায়কও বটে। তাই এ উদ্যোগকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে বিঘ্নিত করার কাজে যারা জড়িত থাকবেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং সংরক্ষণের স্বার্থে সরকারকে সময়মতো জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে জনগণকেও সজাগ থাকতে হবে। কেননা আমরা বিশ্বাস করি, ‘দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই’।

পিডিএসও/হেলাল