ধেয়ে আসছে বিপর্যয়

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১১:০৪ | আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১১:১৩

সম্পাদকীয়

যদি প্রশ্ন করা হয়, কে বড়? প্রকৃতি না মানুষ। যদি বলা হয়, কার শক্তি বেশি? সম্ভবত এ নিয়ে আলোচনার বেশি কিছু নেই। সব দিক বিবেচনায় প্রকৃতি শুধু বড় কিংবা শক্তিশালীই নয়, এক কথায় শ্রেষ্ঠ। প্রকৃতির কোনো কিছুর সঙ্গে মানুষের তুলনাই চলে না। মানুষকে বলা হয় প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এখানে বলে রাখা ভালো, শ্রেষ্ঠ হলেও একমাত্র নয়। প্রাণী ও জীবজগতের সবাই তার সন্তান। সন্তান যখন ভুলপথে পরিচালিত হবে, মা তখন নীরব ভূমিকায় বসে থাকতে পারেন না। শাসন তাকে করতেই হয়। ক্ষমতা এবং যোগ্যতা থাকার পর এক সন্তানের জন্য সব সন্তানকে হারানোর মতো বোকামি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি তা কখনো করেননি এবং কখনো করবেন না।

সম্ভবত শ্রেষ্ঠ সন্তানরা অন্যায় করতে করতে সীমা অতিক্রম করায় তার সহনশীলতার বাঁধ ভেঙে পড়েছে। আর সে কারণেই বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞানীরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, কার্বন নিঃসরণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে, আগামী ১২ বছরের মধ্যে পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রকৃতিতে ক্ষরা, বন্যা আর ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মতো মহাবিপর্যয় নেমে আসতে পারে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তরাষ্ট্রীয় প্যানেলের (আইপিসিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনই পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ থেকে ২০৫২ সালের মধ্যে বিশ্বের বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ সেলসিয়াস অতিক্রম করবে। এ মুহূর্তে যা চলছে, তাতে বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হবে না বলেই তাদের ধারণা। প্রতিবেদন বলছে, নিঃসরণের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীরা এর একমাত্র সমাধানের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, এ মুহূর্তে বিশ্বে যে পরিমাণ কার্বণ নিঃসরণ হচ্ছে, তার পরিমাণ কমিয়ে ২০১০ সালের চেয়ে ৫০ শতাংশ নিচে নামাতে হবে।

শতাংশের কথা বাদ দিয়েই বলা যায়, বিশ্ব মানব সম্প্রদায় এখন একটি বারুদের পাহাড়ের ওপর অবস্থান করছে। যেকোনো সময় এর বিস্ফোরণ হতে পারে। আর এই বিস্ফোরণের ফল যে কারো জন্য শুভ হবে না—বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। এ মুহূর্তে বিশ্ব এক ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হচ্ছে। আগামী কয়েক বছর এ উষ্ণতাকে স্থিতিশীল রাখতে পারলে আমরা মন্দের ভালোয় থাকার যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হব। আমরা মনে করি, এ সময়ের মধ্যে কার্বণ নিঃসরণের সব গতিপথকে রুদ্ধ করার কাজে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ব মানব সম্প্রদায়কে দলবদ্ধ হয়ে প্রকৃতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলতে হবে, ‘তোমার ওপর এতকাল আমরা যে অন্যায় করেছি, তার জন্য জননী হিসেবে আমাদের মার্জনা কর। একবারের জন্য অপকর্ম থেকে সরে আসার সুযোগ দাও। কার্বণ নিঃসরণ সীমিত রাখার প্রশ্নে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতম অবস্থান গ্রহণের সুযোগ পাব। বিশ্বপ্রকৃতিকে আমরা নতুন করে বাসযোগ্য করার প্রশ্নে আর কোনো আপসে না যাওয়ার অঙ্গীকার করছি—কথা দিলাম।

পিডিএসও/হেলাল