অর্থনীতিতে ৫ চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০২

সম্পাদকীয়

সামনেই একাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে পাঁচটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এক. উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা। দুই. সংকটে পড়া ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। তিন. বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। চার. বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দেশীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হবে। পাঁচ. চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

এ ছাড়াও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব ব্যাংক। একইসঙ্গে বিশ্ব বাজারে ডলারের অস্থিরতাও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি। এই অস্থিরতার অবসান ঘটাতে না পারলে আমদানি-রফতানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা বিশ্ব ব্যাংকের।

বিশ্ব ব্যাংকের মতে, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতি মোটামুটি স্থিথিশীল। অবস্থাকে ধরে রাখতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে আরো বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। দেশটির ৭ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বড় কোনো কথা নয়- এ প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখাটাই বড় কথা। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু না বললেই নয় যে, বাংলাদেশ একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে। যেখানে দেশটির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। সুশাসন অব্যাহত থাকলে তাকে আর পেছনে তাকাবার প্রয়োজন হবে না।

যদিও বিশ্ব ব্যাংকের স্থানীয় পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকারও ওপরে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮ শতাংশ। এতে মূলধন ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তবে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিছে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই। ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে হলে এখনো বাংলাদেশকে আরো কিছু লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে হবে। যদিও ইতোমধ্যেই মাথাপিছু আয়সহ তিনটি মানদন্ডে দেশটির উন্নিত হয়েছে।

আমরা মনে করি, প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করায় আমরা অভ্যস্ত। বিষয়টি আমাদের রক্তের সঙ্গেই মিশে আছে। প্রকৃতির কাছেই আমরা প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে শিখেছি। যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে একটি মর্যাদাকর অবস্থানে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছি।

আমরা জানি, আমাদের অন্তরায় একটি। প্রতিবন্ধকতাও একটি। যার নাম দুর্নীতি। এই একটি ক্ষত থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারলেই বাংলাদেশ হতে পারে বিশ্বের সুন্দরতম দেশের একটি এবং এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ